ওয়েব ডেস্ক: ‘নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু’ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান। ২০ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরেছে প্রয়াত হাসিনার দল বিএনপি (BNP)। বিএনপি নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে দেখা যায়নি। আর সরকার গঠনের আগে তার কারণ জানালেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান (BNP chairman Tarique Rahman)। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, কোনওরকম হিংসা, বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করবে না নতুন সরকার। একইসঙ্গে বিদেশনীতি নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, এদিন স্পষ্ট করে দিলেন তারেক রহমান। তারেক বলেন, ‘‘এই জয় বাংলাদেশের। এই জয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’’
এদিন ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তারেক। সেখানে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে তারেক রহমান গলায় ফুটে উঠল ঐক্যের সুর। তিনি বোঝাতে চাইলেন, নির্বাচন এবং তার ফলপ্রকাশ এখন অতীত। এবার বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক, মানবিক আর্থিক ভাবে সচল করে গড়ে তোলার পালা। বিএনপি-প্রধানের কথায়, ‘‘দুর্নীতি সরিয়ে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ এবং মানবিক দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’’ তারেক বলেন, ‘‘এই জয় বাংলাদেশের। এই জয় গণতন্ত্রের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।’’
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!
এদিন তিনি বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। সকল প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। তিনি বলেন, “আর কোনও অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রপতি পরিণত করতে না পারে, তার জন্য আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব। থাকতে হবে। ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। সবাইকে অভিনন্দন জানাই। সরকার ও বিরোধী পক্ষ, যে যার ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু, দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতির ঐক্য আমাদের শক্তি।”
তারেক বলেন, “জনগণ বিএনপি-র প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য এবার বিএনপি-কে কাজ করে যেতে হবে। বিএনপি-র নেতারা এতদিন যে লড়াই করেছেন, তাঁর জন্য ধন্যবাদ। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এই জন্য শত উস্কানির মুখেও আমি বাংলাদেশের সমস্ত বিএনপি নেতাদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তারেকের সাংবাদিক বৈঠকে উঠে আসে ভারত এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কথা। বিএনপি-প্রধান বলেন, ‘‘আমরা আমাদের বিদেশনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এই নীতি তৈরি হবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থের উপর। সেখানে সর্বদাই বাংলাদেশ এবং দেশের নাগরিকদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। সেই ভিত্তিতে আমরা আমাদের বিদেশনীতি ঠিক করব।’’







