Tuesday, March 10, 2026
HomeScrollAajke | লালমোহন বাবুর বাজে কপি, আমাদের রাজ্যপাল গেলেন মুসলমানদের পলায়ন দেখতে
Aajke

Aajke | লালমোহন বাবুর বাজে কপি, আমাদের রাজ্যপাল গেলেন মুসলমানদের পলায়ন দেখতে

লাটসাহেবের জন্য একজন রোহিঙ্গা তো দুরস্থান, একজন অনুপ্রবেশকারীও নেই!

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

দলে দলে মুসলমানরা পালাচ্ছে, এবং রাতে অন্ধকারে নয়, দিনের বেলায়, উচ্ছৃষ্টভোগী টিভি চ্যানেল, মাসোহারা পাওয়া ইউটিউব ক্যামেরার সামনে দিয়ে। এমনিতে তাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাঁরা তো পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে দেশে ঢোকেনি, নিশ্চয়ই ঢুকেছে মাঝরাতে কোনও আড়কাটি আর বিএসএফ-এর বোঝাপড়ায়। এক হাঁটু কাদা পেরিয়ে, অনেক পথ হেঁটে, অনেক কষ্ট করে ঢুকতে হয়েছে এই দেশে। তাঁদের অনেকেরই রেশন কার্ড আছে, ভোটার কার্ড আছে, আধার কার্ড আছে, কিছু লোকজনের তো পাসপোর্টও আছে, কেউ কেউ তো এই বাংলাতে ঢুকে নাকি এমএলএ এমপি’ও হয়েছে। তাঁদের কথা বাদই দিলাম, আমি সেই অত্যন্ত গরীব লোকজনের কথা বলছি, যাঁরা তারকাঁটা পেরিয়ে এদেশে ঢুকেছেন অন্ধকারে। সেই তাঁরা, যাঁরা নাকি কলকাতা সল্টলেকের ঘরে ঘরে কাজ করেন, তাঁদের মনে ভয় ধরিয়েছে এসআইআর, ভয় ধরিয়েছে আমাদের শান্তিকুঞ্জের ‘টাচ মি নট খোকাবাবু’র হুঙ্কার, এক রাতে খালি করে চলে যাও বাংলাদেশে।

তাই তাঁরা যা ছিল সামান্য, তাই বাক্সে পুরে এবারে আর রাতের অন্ধকারে নয়, চেক পোস্ট দিয়েই চলে যাবেন, তাই ভিড় করেছেন চেক পোস্টে। সেখানে দাঁড়িয়েই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন, ইউটিউবারদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বেশ গুছিয়ে, কোনও টেনশন নেই। কাগজ ছাড়া ঢুকেছিলেন, কাগজ ছাড়া ফিরবেন কী করে? রাতের বেলায় ঢুকেছিলেন, দিনের বেলায় ফিরছেন কে? দালালকে ধরে ঢুকেছিলেন এখন নিজেই ফিরবেন কী করে? না এসবের উত্তর কেউ দেননি, ইন ফ্যাক্ট এসব প্রশ্নও কেউ করেননি। কিন্তু দেখানো হয়েছে, দলেদলে মুসলমান অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত চেকপোস্ট পেরিয়ে, ওপার বাংলাতে চলে যাচ্ছেন। এই বিরাট সাফল্যে গর্বিত মুখ আমাদের বিরোধী দলনেতার। আর সেই বিরাট অ্যাচিভমেন্ট দেখতে আমাদের রাজ্যপালবাবু শীতের দুপুরে কোট আর কালো চশমা পরে রওনা দিলেন সীমান্তের দিকে। সেটাই বিষয় আজকে, লালমোহন বাবুর বাজে কপি, আমাদের রাজ্যপাল গেলেন মুসলমানদের পলায়ন দেখতে।

আরও পড়ুন: Aajke | এবার সেম সাইড গোলের পালা শুরু বিজেপিতে, জাস্টিস গাঙ্গুলীর পরে দিলীপ ঘোষ

এখন হয়েছে কি, উচ্ছৃষ্টভোগী সাংবাদিকরা তো লিখেই খালাস। কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম! তাঁরা ফলাও করে লিখেছেন আর দেখিয়েছেন যে, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্ট দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে ফিরছেন এ দেশে অবৈধভাবে বসবাস করা অনুপ্রবেশকারীরা। যাঁরা বেআইনিভাবে ঢুকলেন, তাঁরা কেন আইনিভাবে চেকপোস্ট দিয়ে ফিরবেন? এ প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না। কিন্তু খবরের কাগজে এই খবর পড়ে দারুণ রোমাঞ্চিত আমাদের লালমোহন বাবুর বাজে অতি অখাদ্য কপি, আমাদের রাজ্যপাল ছিত্থিরা ভেলায়ুধন আনন্দ বোস। আর উত্তেজনা হলেই মানুষে যা করে, অকুস্থলে যেতে চায়। লাখে লাখে অনুপ্রবেশকারী পালাচ্ছে, এসআইআর-এর চাপে, তা একজন লাটসাহেবের তো দেখার মত বিষয়। এর আগে হেলিকপ্টার ইত্যাদি চাইতেন। বুঝেছেন সেসব মিলবে না, তো তিনি গাড়িতেই রওনা দিলেন চেকপোস্টের দিকে, মনে ইচ্ছে রোহিঙ্গা দেখবেন, অনুপ্রবেশকারী দেখবেন।

সোমবার সন্ধ্যা পাঁচটা নাগাদ স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে হাজির হন রাজ্যপাল ছিত্থিরা ভেলায়ুধন আনন্দ বোস। শীতের বেলা পড়ে চারপাশে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে খোলা আকাশের নীচে কয়েকশো মানুষ ওপারে যাওয়ার অপেক্ষায় পড়ে থাকলেও এদিন নজরে আসেনি একজন অনুপ্রবেশকারীও। আহারে, লাটসাহেবের জন্য একজন রোহিঙ্গা তো দুরস্থান, একজন অনুপ্রবেশকারীও নেই! সন্ধ্যার অন্ধকারে সীমান্তে এত দূরে এসে তিনি কেবল একটা সাংবাদিক বৈঠক করেই ফিরলেন। আমরা আমাদের দর্শকদের প্রশ্ন করেছিলাম, আপনাদের কি মনে হয়, যাঁরা রাতের অন্ধকারে কোনও রকম পরিচয়পত্র পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই এদেশে ঢুকেছিলেন, তাঁরা দল বেঁধে সীমান্ত দিয়ে চেকপোস্ট পার করে দেশে ফিরবেন? যাঁরা এই আষাড়ে গল্প ছড়াচ্ছেম তাঁরা কি আদৌ সাংবাদিক?

গল্প সেখানেই শেষ নয়, এত সাজো সাজো রবে গুচ্ছের মিডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে এমন এক ফ্লপ শোয়ের পরেও তিনি মুখরক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। উনি নাকি সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করেন, গত কয়েক দিনে কতজন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে গিয়েছে। মানে বিএসএফ ঢোকার সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের দেখতে পেল না, কিন্তু বের হওয়ার হিসেব জানে! কী আশ্চর্য! পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল বলেন, “আমি বিভিন্ন সীমান্ত পরিদর্শন করব। ভারতে কোনও অনুপ্রবেশকারীর ঠাঁই নেই। ভারত সরকার কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে।” সীমান্ত এলাকা ঘুরে কেন্দ্রকে তিনি রিপোর্ট পাঠাবেন বলেও জানান আনন্দ বোস। উনি রিপোর্টে কী লিখবেন, সেটা ভেবেই আমরা আরও রোমাঞ্চিত। যাই লিখুন, সেটার নাম তো ‘দুর্ধষ্য দুশমন’ হওয়া সম্ভব নয়, তাই না?

দেখুন ভিডিও:

Read More

Latest News

toto evos gaming

https://rendez-vous.benin-ambassade.fr/profil-d/ https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 DEPOBOS idn poker 88 situs slot gacor https://www.demeral.com/it/demeral_software/ BWO99 slot 5000 poker situs slot gacor joker toto slot maxwin slot maxwin situs bola BANDAR80 WATITOTO LGO188 DEPOBOS https://www.demeral.com/it/podcast