মঙ্গলকোট: এবার খেলা হবে বলে নিজেরই দলের নেতাদের খোদ হুঁশিয়ারি দিলেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী (MLA Apoorba Chowdhury)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের (Mangalkot Incident) শিমুলিয়া ১ নম্বর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কর্মী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী। তিনি বলেন, খুনের রাজনীতি হচ্ছে। একজন বেঁচে আছে সে ফিরে আসুক তারপর খেলা হবে।
তাহলে প্রশ্ন হল মঙ্গলকোটের দুর্ঘটনার পিছনেও কি শাসকদলের গোষ্ঠী সংঘাতের তত্ত্ব কাজ করছে?
মঙ্গলকোটের আটঘড়ার কাছে পথদুর্ঘটনায় তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ও সঙ্গী তৃণমূল নেতার গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনা ‘পরিকল্পনামাফিক’ ঘটানো হয়েছে এমনই অভিযোগ তোলা হয় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে।
বুধবার সন্ধ্যার মুখে দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী লালু শেখের ছেলে সাহিন শেখ মঙ্গলকোট থানায় এফ আই আর দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা সকলেই তৃণমূল কংগ্রেসেরই নেতা কর্মী বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক তাপ উত্তাপের পারদ চড়েছে।
আরও পড়ুন: শান্তিপুর হাসপাতালে বমি কাণ্ডে অভিযুক্ত চিকিৎসককে শোকজ
বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন,” পঞ্চায়েত সমিতি জেলা পরিষদের নেতারা কেউ দলের জন্য কিছু করেননি শুধু টাকা কামিয়েছেন। তারা ভাবছে ব্লক সভাপতি পরিবর্তন হয়ে যাবে । কিছুই পরিবর্তন হবে না যারা লাফাচ্ছেন সাবধান হোন না হলে খেলা হবে।।
মঙ্গলকোটের লাখুড়িয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মফিজুল শেখ এবং লাখুড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবির শ্বশুর লালু শেখ দুজনে বাইকে চড়ে বুধবার কাটোয়া আদালতে গিয়েছিলেন। দুজনেই কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা। মফিজুল ও লালু শেখের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ছিল। পুরনো একটি মামলায় হাজিরা দিতে মফিজুল কাটোয়া আদালতে গিয়েছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে ।
বাইকে চড়ে ফিরে আসার পথে নতুনহাট – গুসকরা রোডের আটঘড়া ও কল্যাণপুরের মাঝামাঝি এলাকায় একটি ইঁটভাটার সামনাসামনি একটি চারচাকা গাড়ির সঙ্গে বাইকের সংঘর্ষ হয়। পথের ধারে দুজনে রক্তাক্তবস্থায় পড়ে থাকেন। উদ্ধার করে নতুনহাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা লালু শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মফিজুল শেখকে বর্ধমানে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থা গুরুতর বুঝে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরেই মৃতের পরিবার পরিজন থেকে দলের একাংশ এই ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেন। মৃতের ছেলে সাহিন শেখ পুলিশের কাছে ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসেরই বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাহিন শেখ অভিযোগ তুলেছেন “পরিকল্পনামাফিক এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একটি চারচাকা গাড়ি চলন্ত ওই বাইকের সামনে আচমকা ব্রেক কষলে বাইকটি চারচাকার পিছনে ধাক্কা মারে। দুজন ছিটকে পড়ে গেলে তাঁদের মেরে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা,টাঙ্গি ইত্যাদি হাতিয়ার নিয়ে হামলা চালানো হয়। ঘটনার আগে কয়েকজন মিলে বৈঠক করে এই পরিকল্পনা করেছিল।”
এদিকে দুর্ঘটনার পরে বুধবার রাতের মধ্যেই পুলিশের হাতে একটি সিসিটিভি ফুটেজ আসে। তাতে দেখা যায় একটি চারচাকা গাড়ির পিছনে বাঁদিক ঘেঁষে বাইকে চড়ে যাওয়া দুজন সজোরে ধাক্কা দিচ্ছে। মাত্র চার সেকেন্ডের এই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর দুর্ঘটনাস্থলের কাছে একটি ইঁটভাটার সামনে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ওই দৃশ্য ধরা পড়েছে। রাস্তার পাশে যেখান থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছিল ওই জায়গাটি পুলিশ ব্যারিগেট করে ঘিরে রেখেছে। বেনাঝাড় ও কয়েকটি কেটে ফেলা গাছের গোঁড়া রয়েছে সেখানে। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে পাথরের টুকরোও।
উল্লেখ্য বিগত কয়েক মাস ধরেই মঙ্গলকোটে তৃণমূল কংগ্রেসের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে চরম সংঘাত চলে আসছে। সাম্প্রতিককালে একাধিক ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু ও দলের অঞ্চল সভাপতি জখম হওয়ার ঘটনার জেরে দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ছড়েছে। পুলিশ জানায় ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারের খবর নেই।
তবে বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী কর্মী বৈঠকে পরিস্কার বলেন, যারা দলের পদ হারিয়েছে তারাই এই খুন করিয়েছে।
দেখুন অন্য খবর: