কলকাতা: গত মঙ্গলবার রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর জন্য বিচারের দাবিতে যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়েছিল সেই সময় ‘নিষিদ্ধ’ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছিলেন মেগাস্টার দেব (Dev)। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠক থেকে বেরিয়েই ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে (Prosenjit Chatterjee) ৭২ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিয়েছিলেন টলিউড সুপারস্টার। সেই ৭২ ঘণ্টা সম্পূর্ণ হতেই সুখবর দিলেন দেব।
টলিউডে অলিখিত ‘ব্যান’ হয়ে থাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে পারছিলেন না, পরিচালক ও অভিনেতাদের একাধিক। ১ বছরের ও কিছু বেশি সময় ধরে ডিরেক্টস গিল্ড ও ফেডারেশনের মধ্যে কিছু আইনি সমস্যা চলছিল। পরিচালক গিল্ড (Directors’ Association of Eastern India, DAEI) সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নেমে Competition Commission of India-এর দ্বারস্থ হয়েছিল ফেডারেশন (Federation of Cine Technicians & Workers of Eastern India)-র বিরুদ্ধে।অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ—প্রায় ১৬টি পয়েন্টে তুলে ধরা হয়েছিল বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশের অবনতি, বাধা এবং ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের কথা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই মামলা ফেডারেশনের জন্য বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছিল।আইনি দিকটা স্পষ্ট—ডিরেক্টরদের সংগঠন সরাসরি সিসিআই-তে মামলা দায়ের করেছিল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে।ফলে টলিউডের এই সংঘাত জাতীয় পর্যায়ে নজরে চলে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: মনোনয়ন পেশ হিরণের, খোঁচা প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার
জানা যায়, সিসিআই মামলায় যুক্ত থাকার কারণে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)-কে নাকি বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছে। একই পরিস্থিতির শিকার হন পরিচালক সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy)-ও। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই ‘ব্যান কালচার’ কি সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে গভীর শিকড় গেড়েছে?কিন্তু হঠাৎই আবহাওয়া বদলে যায় এক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। গত ৭ এপ্রিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-র অকাল প্রয়াণ যেন পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়া দেয়। সেই আবেগঘন পরিস্থিতিতে প্রযোজক-অভিনেতা তথা সাংসদ দেব (Dev) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—“এবার ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ হোক।”
দেব সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, রাহুল টলিউডকে এক করে দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু টলিউডে যে সমস্ত শিল্পীরা কাজ করতে পারছিলেন না, সেটাও তাঁদের কাছে ভীষণ কষ্টের। সেই জন্য দেব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেন যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ব্যান হয়ে থাকা শিল্পীরা যাতে কাজে ফেরেন, তার জন্য স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অন্যান্য আইনি বিষয়গুলি ও দেখবেন। আর ৭২ ঘণ্টা কাটার আগেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সুখবর’ দিলেন দেব নিজেই। সেই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে যে, ফেডারেশনের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ‘ডিরেক্টরর্স গিল্ড’। ৯ এপ্রিল ডিরেক্টরদের সংগঠনের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয় প্রসেনজিৎকে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তাঁরা সিসিআই-তে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, পৃথকভাবে দায়ের হওয়া ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাগুলিও তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। তবে এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—যে সব নিষেধাজ্ঞা এতদিন ধরে পরিচালক ও অভিনেতাদের কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছেন তাঁরা। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সমস্যার কারণে ডিএইআই-এর অন্তত ৩৫৮ জন সদস্য পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সমাধান চাইলে তা হতে হবে পারস্পরিক এবং নীতিগত ভিত্তিতে।








