ওয়েব ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবির পর তেহরান (Tehran) থেকে এসেছে বড় ঘোষণা। ইরানের (Iran) সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) নিহত। সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আমেরিকা-ইজরায়েলের (America-Israel) ক্ষেপণাস্ত্র হানায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হামলায় খামেনেইয়ের পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। যদিও পরিস্থিতি ঘিরে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা এখনও কঠিন।
রবিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দফতরে কাজ করার সময়েই হামলার শিকার হন সর্বোচ্চ নেতা। একাধিক আন্তর্জাতিক মাধ্যমের রিপোর্টে তেহরানে তাঁর অফিস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর দাবি, খামেনেই আত্মগোপন করেননি। পালানোর খবর ছিল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ অংশ।
আরও পড়ুন: খামেনেইর পরবর্তী উত্তরসূরি কে? জল্পনায় ইরান
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম খামেনেইয়ের। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আয়াতুল্লা রুহোল্লাহ খোমেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উত্থান, পরে ১৯৮৯ সালে সুপ্রিম লিডারের পদে অধিষ্ঠান। শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভীর পশ্চিমমুখী শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তার কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন খামেনেই। গত কয়েক বছরে, বিশেষত নারীদের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা ইস্যুতে, ইরানে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে।
এখন বড় প্রশ্ন, এর পর কী? ইরানে কি ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার বড় রদবদল হবে? নাকি সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে?
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের দায়িত্ব ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর। আপাতত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও বিচারবিভাগীয় প্রধানের তত্ত্বাবধানে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার রদবদল হলেও ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের প্রভাব অটুট থাকতে পারে। একই সঙ্গে আশঙ্কা, নতুন নেতৃত্বও আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকতে পারেন।
এদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর কড়া বার্তা দিয়েছে IRGC। তাদের হুঁশিয়ারি, হামলার জবাব “ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর” হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু ইরানের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তেলবাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এমনকি বৈশ্বিক কূটনীতিতেও তার প্রতিধ্বনি শোনা যেতে পারে। এখন নজর—তেহরানের ক্ষমতার রদবদল কোন পথে এগোয় এবং আন্তর্জাতিক মহল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।







