ওয়েবডেস্ক- আমেরিকা (America) ও ইরান (Iran) যুদ্ধের রেশ পড়ল আজারবাইজানেও (Azerbaijan) । বৃহস্পতিবার দুপুরে ইরানে পক্ষ থেকে ছোঁড়া দুটি ড্রোন আজারবাইজানের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। আজারবাইজানের নখচিভন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Nakhchivan International Airport) আছড়ে পড়ে ড্রোন। একটি স্কুল ভবনের উপরেও ড্রোন আছড়ে পড়েছে বলে খবর। দাবি করা হচ্ছে, এই ড্রোনগুলি ইরানের দিক থেকে এসেছে।
ইরানের সীমান্ত পার হয়ে দুটি ড্রোন বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে এসে পড়েছে। তার মধ্যে একটি এসে পড়েছে ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নখচিভন বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন। অন্যটি পড়েছে পাশের একটি গ্রামের স্কুল ভবনের কাছে।
দুজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আগুন ধরে গেছে বিমানবন্দরে। কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গিয়েছে। টার্মিনাল ভবনের ভিতরে স্কাইলাইটের ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে কাতারের রাজধানী দোহাতেও একের পর বিস্ফোরণে শব্দ পাওয়া গেছে এদিন দুপুরে। কাতার সরকার জানাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই হামলা আটকে দিয়েছে।
যুদ্ধের কারণে ইরান থেকে নির্মাণ সামগ্রী ও কৃষি পণ্যের আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যা আজারবাইজানে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে। যদিও আজারবাইজানের বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ১.৩ শতাংশ, তবুও খাদ্য নিরাপত্তার খাতিরে বিকল্প বাজার খোঁজার দিকে ঝুঁকছে।
আজারবাইজান বর্তমানে এই সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কেন্দ্র করে কোনও পক্ষ না নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে তুরস্ক ও ইজরায়েলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হতে পারে ইরান, এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নাক গলাচ্ছে পাকিস্তান? সৌদির পাশে দাঁড়িয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি পাক মন্ত্রীর
এদিকে ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনায় ড্রোনগুলি ইরান থেকেই এসেছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনায় ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আজারবাইজান। ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে আজারবাইজানের বিদেশমন্ত্রক। এই ড্রোন হামলার বিষয়ে দ্রুত ব্যাখ্যা করে বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলা আজারবাইজান।
আজ়ারবাইজানের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমাদের ভূখণ্ডে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে পশিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনার জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আছে আজারবাইজানের।







