কলকাতা: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে বিজেপির ‘মেগা’ সংকল্পপত্র প্রকাশ করলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। শুক্রবার বাংলায় এসে সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন অমিত শাহ। ১০ হাজার পরামর্শদাতার কথা অনুযায়ী বিজেপির সংকল্পত্র তৈরি করা হয়েছে।নির্বাচনের মুখে বঙ্গবাসীর মন পেতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হেঁটে সংকল্প পত্র প্রকাশ করল বিজেপি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar Scheme) , বেকারদের টাকা থেকে সপ্তম পে কমিশন চালু সহ ১৫ টি প্রতিশ্রুতি দিল শাহ। ‘নতুন রোজগারের পথ খুলবে বিজেপি। তাতে বেকারত্ব ঘুচবে। বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে।’ শুক্রবার বিজেপির ইতশেহার প্রকাশে একথা ঘোষণা করলেন অমিত শাহ। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে।একইসঙ্গে শাহ জানান, সরকারি চাকুরিজীবী ও পেনশনভোগীরা নিয়ম মতো নিশ্চিত ভাবে DA পাবেন।
অমিত শাহ বলেন, “মোদির বিকাশিত ভারতের প্রতিফলন সংকল্পপত্র। মহিলা থেকে কৃষক, সবস্তরের মানুষকে আশার আলো দেখাবে। নিরাশা দূর করবে এই সংকল্পপত্র। সিন্ডিকেট, গুন্ডা, অনুপ্রবেশকারীদের গত ১৫ বছর যেন কালরাত্রির মতো কেটেছে বাংলার মানুষের। সংকল্পপত্র নতুন আশা, নতুন ভরসার। বাংলার মানুষ এখন মনেপ্রাণে পরিবর্তন চান। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর সমস্ত জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের দাবিপূরণ করে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে মোদি। সেই কাজই নিরন্তর চালিয়ে যাচ্ছেন।”রাজ্যের বেকারত্ব মেটাতে এবং যুবকদের স্বনির্ভর করতেও একাধিক চমক থাকছে বিজেপির ইস্তেহারে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের (Lakshmir Bhandar Scheme) মোকাবিলায় বিজেপি এবার সেই ভাণ্ডারের অর্থ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিতে চলেছে। কেবল আর্থিক সাহায্যই নয়, নারী নিরাপত্তার বিষয়টিও ইস্তেহারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজ্যে প্রতিটি ব্লকে বিশেষ ‘মহিলা সুরক্ষা বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব থাকছে।রাজ্যের বেকারত্ব মেটাতে এবং যুবকদের স্বনির্ভর করতেও একাধিক চমক থাকছে বিজেপির ইস্তেহারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ১৫টি প্রধান প্রতিশ্রুতি। জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়ের খতিয়ান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা হবে।‘কাট মানি’ সংস্কৃতির সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল করা হবে।সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: বঙ্গ ভোটে একা লড়বে AIMIM? হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট ভাঙল ওয়াইসি শিবির
আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য থাকবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’। রাজ্যের সমস্ত সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।ধান, আলু ও আম চাষে বিশেষ সরকারি সাহায্য এবং কৃষকদের জন্য ফসলের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে।রাজ্যের প্রতিটি মৎস্যজীবীকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র অধীনে নথিভুক্ত করা হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পশ্চিমবঙ্গকে একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প কেন্দ্র এবং মৎস্য রপ্তানিকারক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা দেশের অন্যতম প্রধান মাছ রপ্তানিকারক রাজ্যে উন্নীত করা হবে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে এবং গবাদিপশু পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুরনো চা বাগানগুলির উন্নয়ন, দার্জিলিং চা-এর বিশ্বজনীন ব্র্যান্ডিং এবং পাটশিল্পের আধুনিকীকরণ করা হবে। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আয়ুষ্মান ভারত যোজনার বাস্তবায়নসহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প চালু করা হবে, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ ও স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা চালু করা হবে এবং উত্তরবঙ্গে একটি নতুন ‘এইমস’ নির্মাণ করা হবে, উত্তরবঙ্গে নতুন আইআইটি ও আইআইএম ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। একটি বিশেষ ‘বন্দে মাতরম্ সংগ্রহশালা’ তৈরি করা হবে। ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন বলবৎ করা হবে। বিজেপির এই ১৫ দফা ঘোষণা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।







