কলকাতা: রাজ্য বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল এনেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সোমবার রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির (LPG Price Hike) প্রতিবাদ মিছিলের শেষে কমিশনকে হিন্দুবিরোধী বলে তোপ দাগলেন মমতা। মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব চালাচ্ছে কমিশন বলেও তোপ দাগেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। খেলা হবে।এ বার আরও খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মারুন। ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে। বাংলার মানুষ জিতছে। এ বার আমাদের সিট আরও বাড়বে, তোমরা রসাতলে যাবে।’’
মমতা বলেন, ‘রাত একটায় মেসেজ পেলাম। মধ্যরাতে একটা স্বাভাবিক দল কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে? বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি। ওরা নারী বিরোধী। আগে নিয়ম ছিল রাজ্য সরকারের কাছে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। ওরা সিলেক্ট করত। এ তো মগেরমুলুক। জমিদার, জোরদার এরা। প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলছেন, চুন চুনকে মারেঙ্গে। আমি ওনাকে বলি দেশকে কী ভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এটা শোভা পায় না।’ মমতার কথায়, ‘আপনারা রাত সাড়ে ১২টার পরে নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন। বিজেপির দালালি করতে গিয়ে রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার দরকার মনে করলেন না। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ। তিনি তো নন বেঙ্গলি কেন বাদ হলেন? ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিনীত গোয়েল তো নন বেঙ্গলি ছিলেন।
বিজেপি ও কমিশনকে বিঁধে মমতা বলেন, পুলিশকে ‘থ্রেট’ করে লাভ নেই। ওরা চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় পেয়েছে চাকরি। এক মাসের জন্য বদলে আবার বলছে পরে দেখে নেবে… তোমরা ঘেঁচু করবে।’’ বিজেপিকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘তোমার পরিবর্তনের সংকল্প গল্প হয়ে থেকে যাবে। তোমার পরিবর্তন হবে না। তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে। বাংলা থেকে যাতে কাউকে তাড়িয়ে দিতে না পারে, সেই লড়াই লড়ছি আমরা। ওরা নর্থবেঙ্গলিদের বলবে, ‘বাঙালির সঙ্গে ঝগড়া করো।’ আপনাদের ব্যবসা এখানে। ছেলেমেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকি।’ এবার ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে। বাংলার মানুষ জিতছে। এ বার আমাদের সিট আরও বাড়বে, তোমরা রসাতলে যাবে।’’
মমতার কথায়, ‘আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, যতই করো হামলা। জিতবে কিন্তু বাংলা। বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুক। বাংলার ভোটটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। এর পরে দিল্লিটা আমরা বুঝে নেবো। বিশ্বাস রাখুন ভরসা, ভরসা রাখুন, মানুষের স্কিম আরও বাড়বে।’এদিন বিধানসভা ভোটের প্রচার শুরু করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মমতা ঘোষণা করেন আবার দেখা হবে নবান্নে। মমতা বলেন, আবার দেখা হবে। নবান্নে দেখা হবে। দেখব, কত হামলা, কত বদলা নিতে পারো। বিজেপির পার্টির লোককে ডিএম, চিফ সেক্রেটারি করতে হবে? কেন মানুষের উপর ভরসা নেই! লড়াইয়ে থাকবেন বন্ধুরা, আমি লড়াইতে। আমি তো যাবই না। মাথায় রাখবেন কোনও ঘটনা ঘটলে প্রধানমন্ত্রী থেকে এই সবক’টাকে দায়িত্ব নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, বিহার, হরিয়ানা থেকে কাউকে এনে যেন ভোট করতে না পারে। টাকা ছড়াতে না পারে।







