কলকাতা: আমি ভবানীপুরে জিতব। এক ভোটে হলেও জিতব। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনে ভবানীপুরের ফল নিয়ে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রচুর সংখ্যক নাম বাদ পড়ার পর শুরু হয় রাজনৈতিক চর্চা৷ সোমবার মমতা জানিয়ে দিলেন ভবানীপুরে একজন ভোটার থাকলেও, জিতবেন তিনিই৷ এদিন মমতা জানিয়েদিলেন আসন্ন নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) এই কেন্দ্র থেকেই যে লড়বেন তিনি, পরোক্ষে তাও জানিয়ে দিলেন মমতা৷‘নির্বাচন কমিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন’, অভিযোগ করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি স্তম্ভিত। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে নির্বাচন কমিশন। দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ভবানীপুর কেন্দ্রে (Bhabanipur Assembly Cconstituency) এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৭ জনের। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ভবানীপুরে নাম বাদ গিয়েছে ৪৭ হাজার ১১১ জনের। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে কমিশনকে তুলোধনা করে মমতা বলেন, ভবানীপুর একটা ছোট কেন্দ্র। ২.৬ লক্ষ ভোটার আছেন। আগে ৫৪ হাজার বাদ গিয়েছিল। এখন দু’হাজার বাদ গিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, মৃতদের পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করেছি। আজকে আমি বলছি, যোগ্য ভোটারদের না তুলে কমিশন আগেই নির্বাচন করতে চাইছে। ধৈর্য্য ধরেছি। ভোটের আগে ভোট করতে চাইছে কমিশন। বাংলার মানুষ তৈরি আছে জবাব দিতে। তিনি আরও বলেন, যার নাম আছে সে এই দুঃখ বুঝবেন না। আমি শকড। এটা প্রতিহিংসামূলক আচরণ। এরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে পারে না। এরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে ‘‘ভবানীপুরে একজন ভোটার থাকলেও জিতব’’, ঘোষণা মমতার৷
আরও পড়ুন: ‘অভিষেককে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চায়’ বাংলায় এসে ফের মমতাকে নিশানা শাহের
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় তৈরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই হোলির রাজ্যবাসীকে হোলির শুভেচ্ছা জানালেন মমতা৷ তিনি বলেন, ‘‘সব বর্ণ, ধর্ম, ইন্ড্রাস্ট্রির সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সবাইকে হোলি মোবারক। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় তৈরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।কলকাতা ও কল্যাণীর মধ্যে সংযোগকারী এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ অত্যাধুনিক ৪/৬ লেন বিশিষ্ট এই সিগন্যাল-ফ্রি এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে মোট ২১টি ফ্লাইওভার। এর এক প্রান্ত যুক্ত হয়েছে নিমতায় বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে। অন্য প্রান্ত সংযুক্ত হচ্ছে গঙ্গার উপর নির্মীয়মাণ ঈশ্বর গুপ্ত সেতু এবং ১২নম্বর জাতীয় সড়কের বড় জাগুলিতে। এতে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে। ফলে এতদিন যে দূরত্ব অতিক্রম করতে অন্তত দু’ঘণ্টা সময় লাগত, নতুন এই সুপার হাইওয়ে চালু হওয়ায় যানজট এড়িয়ে যাতায়াতের সময় কমে অর্ধেক হবে।







