কলকাতা: গত বছর সেপ্টেম্বরের রাক্ষুসে বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল শহর কলকাতা (Kolkata)। এমতাবস্থায় একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality Corporation) ও বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা সিইএস (CESC)। এবছর বর্ষায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, শহরের প্রায় তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভকে ধাপে ধাপে আরও সুরক্ষিত করা হচ্ছে। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টে উন্নত আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কোনও কারণে বিদ্যুৎ লিকেজ হলেও তা সরাসরি মাটিতে নেমে যায় এবং মানুষের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুন: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে বড় মোড়! ২৪ দিন পর ডিএনএ-তে মিলল নিখোঁজদের পরিচয়
পাশাপাশি, ল্যাম্পপোস্টের নীচের অংশ থেকে বেশ কিছুটা উপরে পর্যন্ত পিভিসি পাইপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার আলো বিভাগের এক আধিকারিক জানান, পিভিসি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। ফলে রাস্তা জলমগ্ন থাকলেও বা কোনও কারণে খুঁটির গায়ে বিদ্যুৎ ছড়ালেও বাইরের অংশে তা পৌঁছোবে না। এতে পথচলতি মানুষ বা আশপাশের বাসিন্দাদের তড়িদাহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে বর্ষার সময় বা টানা বৃষ্টিতে জমা জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটি ঘিরে যে আশঙ্কা তৈরি হয়, তা প্রতিরোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত বছরের এক দুর্ঘটনার পর পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার পর থেকেই বিকল্প ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরিতে উদ্যোগী হয় পুরসভা।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল সংখ্যক বাতিস্তম্ভের আর্থিংয়ের অবস্থা নিয়ে। এ বিষয়ে পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, শহরের সব বাতিস্তম্ভেই আগে থেকে আর্থিং রয়েছে। বর্তমানে সেই ব্যবস্থাকেই আরও উন্নত ও আধুনিক করা হচ্ছে, যাতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। পুরসভার শীর্ষ কর্তাদের আশা, এ বছরের বর্ষা শুরুর আগেই অধিকাংশ বাতিস্তম্ভে আর্থিং ও পিভিসি সুরক্ষা দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হবে। নাগরিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই দ্রুত এই প্রকল্প শেষ করতে তৎপর প্রশাসন।







