কলকাতা: দামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গ ভোটের (West Bengal Assembly Election), অপেক্ষা এখন শুধুই নির্ঘণ্ট ঘোষণার। তার আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) -সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কম দফায় ভোট চায় বিরোধীরা, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে সওয়াল। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক সারলেন তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ছাড়াও ছিল ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি। এক বা দু’দফায় ভোট চায় বিজেপি ও সিপিএম, একমত কংগ্রেসও। তবে দফার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা, যেন ভোট লুঠ না হয়’। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে সওয়াল কংগ্রেসের। অন্যদিকে কত দফায় ভোট চায় তৃণমূল? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ফিরহাদ, চন্দ্রিমারা। একজন বৈধ ভোটারেরও যাতে নাম বাদ না যায়, সেই দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সকলে আশ্বস্ত করেছেন, আইন মেনেই নিরপেক্ষ ভোট হবে।
কত দফায় ভোট চায় তৃণমূল? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ফিরহাদ, চন্দ্রিমারা। বলেন, ‘‘এটা ভোটের দফা আলোচনার জায়গা নয়।’’ সোমবার নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে তৃণমূলের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এই বিচ্যুতি কেবল কারিগরি ভুল নয়, বরং বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিত আঘাত।তালিকা থেকে মোট ৬৩,৬৬,৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম-৭’ আবেদন জমা পড়েছিল মাত্র ৪২,২৫১টি।তৃণমূল জানিয়েছে, সবথেকে অবাক করা বিষয় হল, এই কোপে পড়েছেন শাসকদলের বিধায়ক, মন্ত্রী ও কাউন্সিলররা। Statutory Authority ফিরিয়ে আনা: ভোটার তালিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুনরায় ইআরও (ERO) এবং এআরও (AERO)-দের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, পঞ্চায়েতের নথি এবং আবাস যোজনার নথিপত্রকে বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম কেন কাটা হল, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বর্তমান ৬০ লক্ষ ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি করতে হবে।তৃণমূলের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই ‘অসাংবিধানিক’ আচরণের বিরুদ্ধে তৃণমূল যে শেষ পর্যন্ত লড়বে।
কমিশনের বৈঠকে সাতটি দল যোগ দিয়েছিল। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ছাড়াও ছিল ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি। প্রত্যেক দল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। বৈঠক শেষে কমিশন জানায়, অনেক দল এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে এবং কমিশনের প্রতি ভরসা রেখেছে। রাজ্যে আগ্রাসন, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রোধে কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছে দলগুলি। শান্তিপূর্ণ, অবাধ নির্বাচন চাওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সকলে আশ্বস্ত করেছেন, আইন মেনেই নিরপেক্ষ ভোট হবে। এসআইআর প্রক্রিয়াও নিরপেক্ষ ভাবেই হচ্ছে। যে কোনও নাম মোছার জন্য, যোগ করার জন্য বা পরিবর্তনের জন্য এখনও ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে চিৎকার করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর ব্যবহারে চন্দ্রিমা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে দাবি। চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট! এসআইআর নিয়ে সংঘাতের আবহেই এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হয় শাসকদল তৃণমূল। বৈঠকে অংশ নেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা বলেন, নিরপেক্ষা সংস্থা হিসাবে নির্বাচন কমিশনের উপর বিশ্বাস রাখি। কিন্তু তা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে না। ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭-এ তথ্য বিভ্রাট নিয়েও সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী। পাশাপাশি কোনও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না পড়ে তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও জ্ঞানেশ কুমারকে জানিয়ে এসেছেন বলেও জানিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এক দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছে সিপিএম। সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট করানো হলেও তাদের আপত্তি নেই। এসআইআর নিয়ে কমিশনের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সিপিএমের প্রতিনিধিদল।বিজেপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এসআইআর নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কেবল নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। বিজেপির প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের কাছে তারা বলেছেন ৭-৮ দফায় নয়, রাজ্যে এবারে এক দু’দফায় ভোট করাতে চায়৷ সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ১৬ দফা দাবি জানিয়ে এল বিজেপির প্রতিনিধি দল৷ তবে সেনসিনিটিভ বুথ চিহ্নিত করা প্রয়োজন৷ এছাড়া, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তা নিয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধি দল৷







