কলকাতা: অভাবের সংসারে দু-বেলা অন্নের সংস্থান করাই যেখানে বিলাসিতা, সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এক প্রকার যুদ্ধ। কিন্তু সেই দারিদ্রকে হার মানিয়েই হাসনাবাদের প্রত্যন্ত ঘুনী গ্রামের পড়ুয়ারা রোজ সাইকেলে চড়ে পাড়ি দেয় ৬ কিলোমিটার পথ। লক্ষ্য একটাই, বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হওয়া। সংকল্পে অটুট এই লড়াকু পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিল কলকাতার ‘নারায়নদাস বাসুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুল প্রাক্তনী সংগঠন ট্রাস্ট’ (বাঙুর স্কুল প্রাক্তনী সংগঠন)।
আরও পড়ুন: খবরের মধ্যেকার ‘খবর’ খুঁজতে দরকার নিজস্ব দৃষ্টি!
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘুনী আদর্শ হাই স্কুলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক বিশেষ কর্মশালার শুভ সূচনা করল এই প্রাক্তনী সংগঠন। শুধু পরামর্শদানই নয়, এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩০ জন মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীর হাতে জ্যামিতি বাক্স, খাতা, কলম সহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
১৯৬২ সালে সুশীল কুমার পাত্রর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই ঘুনী আদর্শ হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই অঞ্চলের শিক্ষার প্রসারে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সুশীল কুমার পাত্র এদিন উপস্থিত হয়ে বলেন, “বাঙুর স্কুল প্রাক্তনী সংগঠন ট্রাস্টের এই উদ্যোগ দুস্থ ও মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে।”
সংগঠনের সভাপতি সুপ্রিয় সাহা তাঁর বক্তব্যে জোর দেন আগামী প্রজন্ম গঠনের ওপর। তিনি বলেন, “শিক্ষার প্রসারের আলোয় প্রজন্ম গঠন করলেই সমাজ ও দেশ গঠন সম্ভব। গ্রামের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যাতে অর্থের অভাবে পড়াশোনা না ছাড়ে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।” স্কুলের প্রধান শিক্ষক তনয় কুমার দাস এই উদ্যোগকে ‘নজিরবিহীন ও বিরল দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, শহরের দাদাদের পাশে পেয়ে আপ্লুত গ্রামের কচিকাঁচারাও। এক পড়ুয়ার কথায়, “আমরা নতুন করে সাহস পাচ্ছি। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।” গ্রামবাসীদের মতে, এই ধরণের উদ্যোগ তাঁদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাবে।
কলকাতার এক প্রাক্তনী সংগঠনের এই সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রত্যন্ত গ্রামের পড়ুয়াদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির মেলবন্ধন এদিন হাসনাবাদের ঘুনী গ্রামে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল। শিক্ষা প্রসারের এই কর্মধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছে প্রাক্তনী সংগঠন।







