আমাদের দুর্ভাগ্য চৈতন্য, নানক, কবীরের দেশে এরকম অসভ্য বর্বর এক সরকার ক্ষমতায় আছে, যাদের প্রতিটা সিদ্ধান্ত মানবতা বিরোধী, ধর্ম বিরোধী, সভ্যতার বিরোধী। একবার নয় বারবার আমরা দেখেছি সেইরকম সিদ্ধান্ত, সেইরকম ব্যবহার। এর আগে অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘উঁই পোকার মত বাংলাদেশিরা নাকি ভারতের অর্থনীতিকে কুরে কুরে খাচ্ছে’। মাথাতেও নেই, এই তাড়িপাড় গুজরাতির যে তাঁর রাজ্য গুজরাত থেকে ৩৫০০ টন কাপড় রং করার কেমিক্যাল পাঠায় প্রতি মাসে, গুজরাত থেকে সুতো যায় বাংলাদেশে, হ্যাঁ, সেখান থেকে খরচ ওঠে ধোকলা, রোটলা পোটলার, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বন্ধে সবচেয়ে বেশি চোট পড়েছিল ওই গুজরাতে। সেই গুজরাতের এক বর্বর সার্কুলার দিয়ে বিএসএফ কর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছে খাড়ি অঞ্চল, যেখানে সেভাবে তারকাঁটা বসানো যাচ্ছে না সেখানে সরীসৃপ ছেড়ে দিলে কেমন হয়? আমরা সীমান্ত বিরোধ অনেক দেখেছি, সারা পৃথিবীতে দেখেছি, যুদ্ধ হয়েছে বার বার, তারকাঁটার বেড়া লাগানো হয়েছে সেই কবে এই কাঁটাতার তুলে দেবার গান গেয়েছিলেন জন লেনন, কিন্তু সে তো এক সভ্য সমাজের কথাবার্তা, অমিত শাহের কাছ থেকে, আরএসএস–বিজেপির কাছ থেকে সেই সভ্যতা আশা করাও তো অন্যায়। আমরা দেখেছি জার্মান ভাগ করে মধ্যে বানাও হয়েছিল পাঁচিল, যে পাঁচিল আজ ইতিহাস, আমরা জানি মেক্সিকো বর্ডারে উন্মাদ ট্রাম্প বসাতে চায় সেই পাঁচিল। কিন্তু সীমান্ত লাগোয়া জলাভূমি, খালে সরীসৃপ? কুমির আর বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেবার কথা কতবড় অমানুষ হলে বলা যায়? সেটাই বিষয় আজকে, বাংলাদেশের বর্ডারে নদী নালায় কুমির, সাপ ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা অমিত শাহের।
মধ্যযুগের ইতিহাসে আমরা দেখেছি রাজারা রাজপ্রাসাদ সুরক্ষিত রাখতে বিষাক্ত সাপ আর কুমির ছেড়ে দিতেন রাজপ্রাসাদ ঘেরা খালে। প্রতিবাদী প্রজাদের সেই খালে ফেলে দেবার কথাও আমরা শুনেছি। কিন্তু মানুষ সভ্যতার পথে হাঁটা দিয়েছে, বর্বর প্রথাগুলোকে মুছে ফেলেছে, কিন্তু আরএসএস-বিজেপি সেই প্রথাগুলোকে ফিরিয়ে আনতে চায়, বাংলাদেশ আর ভারতের বিরাট বড় সীমান্ত, সেই সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু সব্বাই জানে যে, এই সীমান্তে এমন দুর্গম জায়গাও আছে যেখানে পাঁচিল তোলা, কাঁটাতার বসানো ইত্যাদি সম্ভব নয়। কারণ সেখানে অজস্র ছোট ছোট খাঁড়ি আছে, জোয়ারের জলে ভেসে যায়, ভাটাতে থকথকে কাদা সুন্দরী গাছ, গরান গাছে ভরা। শোনা যায় কেউ কেউ রাতের অন্ধকারে এই খাল-খাঁড়ি দিয়েই চুপিসারে ঢুকে পড়ে ভারতে। এটা কি সত্যি? হ্যাঁ সত্যি। কিন্তু এই সত্যিটা বহু পুরানো, এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি সেই আগের জায়গাতে দাঁড়িয়ে নেই, সেখানে মানুষ দিনমজুরির জন্য ভারতে আসার চেষ্টা কবেই ছেড়েছে। যদি বা কেউ আসে, তাঁরা হয় এপার বাংলাতে থাকা তাঁদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে, কেউ বা আসে চিকিৎসা করাতে, আবার নির্দিষ্ট করে কিছু হিন্দু ওপার বাংলায় নিজেকে আর সুরক্ষিত না মনে করে চলে আসে। এধরণের অনুপ্রবেশ খুব সামান্য, আর তা ধরার যথেষ্ট উপায়ও আছে, কারণ ভারতে থাকতে হলে তাকে আধার কার্ড নিতে হবে, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ছেলেমেয়েদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে, সেখানে নজরদারি বাড়ালেই এগুলোকে ধরা যায়।
আরও পড়ুন: Aajke | মিঠুন না দিলীপ না শুভেন্দু? কোন বনেগা মুখ্যমন্ত্রী?
কিন্তু মাথায় তো ঘোরে এক বর্বর শাসনের অনুষঙ্গ, সেটাকে মাথায় রেখেই এই চিন্তা, যাক শালারা কুমিরের পেটে, কিম্বা মরুক সাপের কামড়ে। এই অমিত শাহ কোনও দিনও যাননি এইসব এলাকাতে, এখানে স্থানীয় মানুষজন মাছ ধরতে জলে নামেন, একটা খাঁড়ি দিয়ে অন্য খাঁড়ি হয়ে ছোট ডিঙি নৌকো নিয়ে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি যায়, তাঁরা ভারতীয়, আর এই নির্বোধদের মাথাতে এটাও নেই যে, খাঁড়ির কুমির বা সাপ বাংলাদেশি আর ভারতীয়ের মধ্যে ফারাক জানে না, পাকিস্তানের মুনির সাহেব আর অমিত শাহকে অনায়াসেই এই কুমিরে খেতে পারে বা সাপে কামড়াতে পারে, ভারত–পাক লড়াই তাদের মাথায় নেই। এক বর্বর শাসনেই এ ধরণের চিন্তা মাথাতে আসে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশ সীমান্তে যে খাঁড়ি জলাভূমি আছে সেখানে বাংলাদেশিদের আটকানোর জন্য সাপ আর কুমির ছেড়ে দেবার প্ল্যান করেছেন অমিত শাহ, আপনাদের কি মনে হয়, সেই কুমির, সাপ কেবল বাংলাদেশিদের কামড়াবে? এপারের ভারতীয়দের কামড়াবে না? নাকি ক’টা বাঙালি মরে গেলে ওই অমিত শাহের কিছু এসে যায় না? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
বানের জল আসবে, সাপ-কুমির খাঁড়ি ছেড়ে ঢুকবে গ্রামে, মরবে তো কিছু বাঙালি! অমিত শাহের তো তাতে কিচ্ছু এসে যায় না, আসলে আপাদ মস্তক বাঙালি বিরোধী এই দুই গুজরাতির আমলে বাংলা আর বাঙালিই হয়ে উঠেছে আক্রমণের প্রথম টার্গেট। পড়শির ঘরে সাপ পাঠিয়ে দেওয়া জানোয়ারদের দল ঘৃণার চাষ করে। আর আমরা? আমরা তো সেই কবেই জন লেননের গানের বাংলা অনুবাদ করেছি, পড়েছি গেয়েছি, ইমাজিন, হ্যাঁ মনে করো,
ধরে নাও কোনও স্বর্গ নেই
ধরে নাও। ধরে নিতে তো দোষ নেই,
কোনও নরক নেই মাটির তলায়
বসে আছো নীল আকাশ মাথায়
ধরে নাও মানুষ, শুধু আজকের জন্য বাঁচছে।
ধরে নাও এ পৃথিবীতে মানচিত্র থেকে কাঁটাতার মুছে গিয়েছে।
জানি এটা শক্ত, তবু নাও না ধরে,
তোমায় কাউকে মারতে হবে না,
বা খামোখা যেতে হবে না মরে
আর ধরে নাও ধর্ম টর্ম উবে গিয়েছে
মানুষ মহা-আনন্দে, শান্তিতে বেঁচে আছে
তুমি বলতেই পারো আমি বড্ড বেশি স্বপ্ন দেখি, তাই না?
কিন্তু এ স্বপ্ন তো শুধু একলা আমিই দেখি না
আমি নিশ্চিত তুমিও একদিন এই স্বপ্নই দেখবে
মিলিয়ে নিও, এ পৃথিবীর কেউ বাদ যাবে না
হ্যাঁ আমরা কাঁটাতার ভাঙার কথা ভাবি, আর অমিত শাহ সাপ, কুমির ছেড়ে দেবার কথা ভাবে, মানুষে আর জানোয়ারে ফারাক থাকবে বৈকি।
দেখুন আরও খবর:








