Friday, January 9, 2026
HomeScroll'ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল ছিনতাই', হাইকোর্টে ইডি, কাল শুনানি?
Calcutta High Court

‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল ছিনতাই’, হাইকোর্টে ইডি, কাল শুনানি?

তল্লাশি অভিযানের সময় অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ইডির

কলকাতা: বৃহস্পতিবার কয়লাকাণ্ডের তদন্তে সকাল থেকেই অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আইপ্যাকের (I-PAC) সল্টলেক (Saltlake) দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে ইডি তল্লাশি চালায়। সেখানেই ঘটেছে তাৎক্ষণিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই অফিস চত্বরের বাইরে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে আইপ্যাকের অফিসে প্রবেশ করেন। ২০ মিনিট আইপ্যাক অফিসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঢোকার সময় হাত খালি থাকলেও, বেরনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতে ছিল সবুজ ফোল্ডার। হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকের ফোন নিয়ে বাইরে বেরোন মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও ED-র অভিযান। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে আইপ্যাকের অফিসেও পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সল্টলেকের অফিস থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র ও ফাইল তোলা হল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে। তল্লাশি অভিযানের সময় অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ ইডি।

ঘটনার প্রেক্ষিতে ইডি এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়েরের আর্জি জানিয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই আবেদন দাখিল করা হয়েছে।আইপ্যাক অফিসে তল্লাশিতে ‘বাধা’, এই আবেদন নিয়েই হাইকোর্টে ইডি। মামলা দায়েরের অনুমতি হাইকোর্টের, কাল শুনানির সম্ভাবনা।মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চলাকালীন বাধাদান এবং ফাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। হাইকোর্টের অনুমতি মেলায় আগামীকালই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ইডি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। কোনও রাজনৈতিক দল বা পার্টি অফিসকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়নি। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, “সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন।” এই বিবৃতিতে ইডি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, ঘটনা শুধু তদন্তে বাধা দেওয়ার নয়, আইন এবং সংস্থার কর্তব্যের ওপর সরাসরি আঘাত।

আরও পড়ুন: প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার প্রতিবাদে কাল পথে নামছেন মমতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ এবং এই ফাইল বহনের ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইডি-র (ED RAID) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই তল্লাশি এবং নথি বাজেয়াপ্তি শুধুমাত্র তদন্তের স্বার্থে করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি আইনজীবী ডেপুটি সলিসিটার জেনারেল ধীরজ দ্বীবেদী বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, কয়লা পাচারকাণ্ডে দুর্নীতি নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি করছে ইডি। সেই তদন্তেই প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাক অফিসে যান ইডি আধিকারিকরা। IPAC কর্ণধারের বাড়ি-অফিসে তল্লাশি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইডির। বলা হয়, ‘শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারি কায়দায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তল্লাশি চলাকালীন হঠাৎ প্রচুর পুলিশ নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। IPAC কর্ণধারের বাড়ি থেকে সল্টলেকে IPAC-এর অফিসে ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী ও পুলিশ অফিসাররা IPAC-এর অফিসে ঢোকেন। জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নেন’।

Read More

Latest News