কলকাতা: ধর্মতলায় (Dharmatala) ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড হোটেলের (Grand Hotel Renovation) সামনের ফুটপাত থেকে হকার সরানো নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতায় অবশেষে সমাধানের পথ দেখাল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality Corporation)। একসঙ্গে উচ্ছেদ নয়, বরং ধাপে ধাপে সংস্কারের কাজ এগোনোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্থায়ীভাবে হকারদের সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, হোটেল কর্তৃপক্ষ সংস্কারের কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর আবেদন জানিয়ে পুরসভার দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি টাউন ভেন্ডিং কমিটি (টিভিসি)-র বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, টিভিসির কো-চেয়ারম্যান স্বপন সমাদ্দার, পুরসভার আধিকারিক এবং বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। হোটেল কর্তৃপক্ষও আলোচনায় অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: নবান্নের তরফে মিলল সবুজ সংকেত, সাইবার ক্রাইম রুখতে ৭টি নতুন থানা চালু লালবাজারের
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “গোটা বছরের জন্য সব হকার সরানো সম্ভব নয়। যে অংশে সংস্কারের কাজ চলবে, শুধুমাত্র সেই অংশের হকারদের দেড় থেকে দু’মাসের জন্য সরানো হবে। কাজ শেষ হলে তাঁরা আবার আগের জায়গায় বসতে পারবেন।” অর্থাৎ, অনির্দিষ্টকালের উচ্ছেদের বদলে সময়সীমা বেঁধে তিন থেকে চার ধাপে সংস্কার হবে। প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট অংশের হকারদের অস্থায়ীভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে গ্র্যান্ড হোটেলের সামনে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। বছর দেড়েক আগে পুরসভা, পুলিশ ও টিভিসির যৌথ অভিযানে ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে হকারদের বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে নজরদারি শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি ফের আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
হোটেলের সংস্কার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রথমে সব হকারকে সরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ভাবনা থাকলেও আদালতের জটিলতা এবং জীবিকার প্রশ্নে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বৈঠকে মত ওঠে, এক থেকে দেড় বছর সম্পূর্ণভাবে হকার সরিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ী সরানোর প্রক্রিয়া চালানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এতে যেমন ঐতিহ্যবাহী হোটেলের সংস্কার এগোবে, তেমনই হকারদের রুজিরুটিও পুরোপুরি বন্ধ হবে না।







