Wednesday, January 14, 2026
HomeScrollFourth Pillar | “হিন্দু মস্তিষ্ক, এবং ইসলামি দেহই একমাত্র আশা” - বিবেকানন্দ

Fourth Pillar | “হিন্দু মস্তিষ্ক, এবং ইসলামি দেহই একমাত্র আশা” – বিবেকানন্দ

ধর্মকে সীমাবদ্ধ করে তাকে বিভাজনের হাতিয়ার করতে চায়

আজ ১২ জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। প্রতি বছর এই দিনেই আমরা বিবেকানন্দের কথা বলি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু আজ খুব জরুরি বাকি ৩৬৪ দিনও বিবেকানন্দের কথাগুলোকে সামনে রাখা, আজ যখন দেশে এক উদগ্র হিন্দু জঙ্গী জাতীয়তাবাদ ছড়ানো হচ্ছে, হিন্দুত্বেরত নামে বিষ ছড়ানো হচ্ছে তখন আবার সেই বিবেকানন্দের কথায় ফিরে যাওয়াটা খুব জরুরি। বিবেকানন্দকে অনেকেই ‘হিন্দু পুনর্জাগরণের মহানায়ক’ বা ‘আধুনিক ভারতের স্রষ্টা’ বলেন। কিন্তু এই সময়ের রাজনৈতিক আবহে বিবেকানন্দের সেই হিন্দুত্বের সংজ্ঞা এবং আজকের দিনে প্রচলিত রাজনৈতিক হিন্দুত্ব বা বিজেপির হিন্দুত্ববাদের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক আছে বা তৈরি হয়েছে, তা তলিয়ে দেখাটা অত্যন্ত জরুরি। বিবেকানন্দ যখন গৈরিক বসন পরে শিকাগোর ধর্মমহাসভায় দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁর গলায় কোনও একপেশে আধিপত্যের সুর ছিল না, বরং ছিল বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব এবং সহনশীলতার অমিয় বাণী। বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্ম ছিল এক মহাসাগরের মতো, যা সমস্ত নদীকে নিজের বুকে আশ্রয় দিতে জানে । অন্যদিকে, এখনকার বিজেপির এই রাজনৈতিক হিন্দুত্ব এক নির্দিষ্ট সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে ধর্মকে সীমাবদ্ধ করে তাকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে চায়। বিবেকানন্দের কাছে ‘হিন্দু’ হওয়া মানেই ছিল বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া, যেখানে কোনো বিদ্বেষ বা সংকীর্ণতার স্থান ছিল না । বিবেকানন্দের হিন্দুত্বের ধারণাটা তো আকাশ থেকে পড়েনি, এর মূলে ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের অমোঘ শিক্ষা। দক্ষিণেশ্বরের সেই কোট আনকোট গ্রাম্য অশিক্ষিত বলে পরিচিত ব্রাহ্মণের পায়ের তলায় বসেই নরেন্দ্রনাথ শিখেছিলেন জীবনের চরম সত্য— ‘যত মত তত পথ’। শ্রীরামকৃষ্ণ নিজে কেবল হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাখার সাধনা করেননি, তিনি ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সাধনার করেছিলেন আর সেই সাধনায় সেই একই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছিলেন, সেটাই তিনি বলতেন । শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, আমার পথটাই একমাত্র ঠিক আর বাকি সব ভুল— এই ধরণের সংকীর্ণতাই আধ্যাত্মিকতার শত্রু, আর সেটাই তিনি তাঁর শিষ্যদের বলতেন । বিবেকানন্দ সেই শিক্ষাকেই তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে ধর্ম মানে কোনো নির্দিষ্ট একটা আচার, সংস্কার বা তিলক, টিকি, দাড়ি, ফেজ নয়, বরং ধর্ম হলো মানুষের অন্তরের সেই দেবত্বকে জাগিয়ে তোলা যা সর্বজনীন। বিবেকানন্দের কাছে গেরুয়া বা সন্ন্যাস ছিল ত্যাগের প্রতীক, আধিপত্যের নয়। সন্ন্যাসীর গেরুয়া মানে হল নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে জগতের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া । রাজনৈতিক হিন্দুত্বে যখন গেরুয়া রঙকে উগ্র জাতীয়তাবাদের, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন বিবেকানন্দের সেই ত্যাগের আদর্শ উবে যায়, তার আর কোনও মূল্যই থাকে না। বিবেকানন্দ প্রায়শই বলতেন, প্রকৃত সন্ন্যাসী তিনিই যিনি ইন্দ্রিয় ও মনের ওপর প্রভুত্ব করেন, অন্য কোনো মানুষ বা সমাজের ওপর নয় । একবারের জন্যও বিবেকানন্দের মুখে হিন্দু রাষ্ট্রের কথা শুনিনি আমরা, তাঁর কাছে হিন্দু ধর্ম ছিল এক আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান, যা মানুষকে সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দেয়। আজকের রাজনৈতিক হিন্দুত্ব যেখানে ধর্মকে এক নির্দিষ্ট ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বা রাজনৈতিক পরিচিতি, পলিটিক্যাল শ্লোগান এ নামিয়ে আনা হয়েছে, বিবেকানন্দ সেখানে ধর্মকে দেখেছিলেন ব্যক্তির মোক্ষ এবং জগতের হিতের মাধ্যম হিসেবে। মনে করুন সেই ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোর সেই ভাষণের কথাগুলো, বিশ্ব ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসে নতুন এক মোড়। মঞ্চে উঠে বিবেকানন্দ যখন ‘আমেরিকাবাসী ভাই ও বোনেরা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, তখন সাত হাজার দর্শক দু মিনিট ধরে হাততালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তখন হিন্দুরা খ্রিস্তানদের ম্লেচ্ছ বলতেন, বিবেকানন্দ বললেন ভাই, বোন । সেই ভাষণে তিনি কেবল হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেননি, তিনি কথা বলেছিলেন পৃথিবীর প্রাচীনতম সন্ন্যাসী পরম্পরার পক্ষ থেকে। তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেছিলেন যে তিনি এমন এক ধর্মের অনুসারী যা বিশ্বকে সহনশীলতা এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা— এই দুইই শিখিয়েছে ।

বিবেকানন্দের এই ‘গ্রহণযোগ্যতা’র ধারণাটা আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল সহনশীল হওয়ার কথা বলেননি। তাঁর মতে, সহনশীলতা বা ‘Tolerance’ শব্দটার মধ্যে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন অহংকার থাকে। সহনশীলতা মানে হল— আমি মনে করছি আপনি ভুল, কিন্তু তাও আমি দয়া করে আপনাকে থাকতে দিচ্ছি। বিবেকানন্দ এই ধরণের মনোভাবকে প্রায় ‘পাপ’ বা ‘ঈশ্বরনিন্দা’ বলে মনে করতেন । তিনি চেয়েছিলেন ‘Acceptance’ বা গ্রহণ করা। অর্থাৎ, আমি বিশ্বাস করি যে আপনার ধর্মও আমার ধর্মের মতোই সত্য এবং তা একই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর একটা ভিন্ন পথ। তিনি শিকাগো ধর্মসভায় দাঁড়িয়ে ঋগ্বেদের সেই বিখ্যাত বাণী উচ্চারণ করেছিলেন— “একং সদবিপ্রা বহুধা বদন্তি” সত্য এক, ঋষিরা তাকে বিভিন্ন নামে ডাকেন। আজকের রাজনৈতিক হিন্দুত্ব যখন অন্য ধর্মের মানুষদের ‘অপর’ ‘ওরা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়, তখন বিবেকানন্দের এই ‘সব ধর্ম সত্য’ এবং ‘সবাইকে আপন করে নেওয়ার’ শিক্ষাটার কথাই আমাদের বলতে হবে। শিকাগোর ভাষণে তিনি একটা ব্যাঙের গল্প বলেছিলেন, যে সারা জীবন কুয়োর মধ্যে থেকে মনে করত তার কুয়োটাই হলো সারা পৃথিবী। যখন সমুদ্রের এক ব্যাঙ তাকে এসে সমুদ্রের কথা বলল, কুয়োর ব্যাঙটা তা বিশ্বাসই করতে চাইল না। বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে ধর্মের ক্ষেত্রেও মানুষ নিজের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থেকে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করে। তিনি চেয়েছিলেন সেই কুয়োর দেওয়াল ভেঙে ফেলে বিশ্বমানবতাকে এক করতে। রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদ আজ আবার সেই কুয়োর দেওয়ালগুলোকে উঁচু করছে, যেখানে হিন্দু ধর্মকে কেবল একটা রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে আটকে রাখার চেষ্টা চলছে। আজ যখন ইসলামকে, এক ভিলেন হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে তখন কেবল মনে করুন বিবেকানন্দের ইসলাম ভাবনা, বিবেকানন্দের হিন্দুত্বের সাথে আধুনিক রাজনৈতিক হিন্দুত্বের সবচেয়ে বড় ফারাকটা ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে। আজকের দিনে যখন মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বা তাদের ইতিহাসকে অস্বীকার করার একটা প্রবণতা আমরা দেখছি, বিবেকানন্দ সেখানে ইসলামের সাম্যবাদকে ভারতের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য মনে করতেন । ১৮৯৮ সালে মহম্মদ সরফরাজ হোসেনকে লেখা তাঁর সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের মাতৃভূমির জন্য হিন্দু মস্তিষ্ক, বেদান্ত মস্তিষ্ক এবং ইসলামি দেহই একমাত্র আশা” । বিবেকানন্দ মনে করতেন যে বেদান্তের সূক্ষ্ম ও গভীর আধ্যাত্মিক তত্ত্বের সাথে ইসলামের ব্যবহারিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মিলন ঘটলে তবেই ভারত আবার শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করবে। বিবেকানন্দের জীবনে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা বুঝিয়ে দেয় যে তিনি ধর্মকে কখনও মানুষের পরিচয়ের অন্তরায় হিসেবে দেখেননি। রাজস্থানের মাউন্ট আবুর একটা ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে বিবেকানন্দ মুন্সি ফয়েজ আলী খান নামে এক মুসলিম আইনজীবীর বাড়িতে অতিথি হয়েছিলেন। একজন হিন্দু সন্ন্যাসী হয়ে তিনি কেন একজন মুসলমানের বাড়িতে থাকছেন বা তাঁর হাতের খাবার খাচ্ছেন— এই প্রশ্ন তুলে যখন কিছু গোঁড়া হিন্দু তাঁকে আক্রমণ করেছিল, বিবেকানন্দ অত্যন্ত রুদ্রমূর্তিতে উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনারা ঈশ্বর বা শাস্ত্র সম্পর্কে কিছুই জানেন না। আমি সবকিছুর মধ্যে সেই ব্রহ্মকেই দেখি। আমার কাছে কোনো উঁচু-নিচু বা হিন্দু-মুসলমান ভেদ নেই” । তিনি এমনকি পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধতা এবং তার সংরক্ষণের ভূয়সী প্রশংসা করতেন । রাজনৈতিক হিন্দুত্ব যেখানে মোগল যুগকে কেবল অন্ধকারের যুগ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, বিবেকানন্দ সেখানে মোগল স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং শাসনের উজ্জ্বল দিকগুলোকে শ্রদ্ধার সাথেই গ্রহণ করেছিলেন । তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভারতের সংস্কৃতি কোনো একপেশে বিষয় নয়, বরং তা বিভিন্ন নদী মিলিত হওয়া এক বিশাল মোহনা। বিবেকানন্দের এই অসাম্প্রদায়িকতা আজকের সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিন্দুত্বের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা আর সেটাই আজ এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের প্রচারের সামনে তুলে ধরা উচিত। বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্ম ছিল অন্তর্মুখী সংস্কারের ধর্ম। তিনি মনে করতেন ভারতের পতনের মূল কারণ অন্য কোনও ধর্ম বা বিদেশিদের আক্রমণ নয়, বরং আমাদের নিজেদের সমাজের কুসংস্কার এবং জাতপাতের অত্যাচার। তিনি সেইসময়কার হিন্দু সমাজকে আক্রমণ করে বলেছিলেন যে আমাদের ধর্ম এখন ‘রান্নাঘরে’ ঢুকেছে এবং তা ‘ছুঁয়ো না ধর্মে’ পরিণত হয়েছে । তিনি লিখেছিলেন, “আমাদের ধর্ম এখন রান্নাঘরে, আমাদের ঈশ্বর ভাতের হাঁড়িতে, আর আমাদের মন্ত্র হলো— আমাকে ছুঁয়ো না, আমি পবিত্র” এই ধরণের রক্ষণশীলতা এবং জাতপাতের বিভাজনকে তিনি তীব্র ঘৃণা করতেন। আজ সেই বর্ণাশ্রমকে সমর্থন করে মোহন ভাগবত বিবৃতি দিচ্ছেন। রাজনৈতিক হিন্দুত্ব অনেক সময় বর্ণাশ্রম প্রথাকে একটু ঘুরিয়ে সমর্থন করে বা হিন্দু সমাজকে কেবল একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থেই ঐক্যবদ্ধ করতে চায়। কিন্তু বিবেকানন্দের লক্ষ্য ছিল সেই সমস্ত শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের উত্থান যাদের তিনি ‘দরিদ্র নারায়ণ’ বলতেন। বলেছিলেন, “যে দরিদ্রের মধ্যে শিবকে দেখে, সে-ই প্রকৃত উপাসক।” তিনি এমনকি উচ্চবর্ণের মানুষদেরও সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে যদি তারা সাধারণ মানুষকে অবহেলা করে, তবে তাদের বিনাশ অনিবার্য । বিবেকানন্দের কাছে হিন্দুত্বের জাগরণ মানে ছিল প্রতিটা দরিদ্র ভারতবাসীর পেট ভরে অন্ন এবং মাথায় শিক্ষার আলো পৌঁছানো। কেবল রেশন নয়, শিক্ষা দরকার। তিনি বলেছিলেন, “খালি পেটে ধর্ম হয় না” ।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | বিশ্বগুরু হতে গিয়ে মোদিজি বিশ্বজোকার হয়ে উঠছেন

বিবেকানন্দের গেরুয়া ছিল ত্যাগের রঙ, ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা বলে। এই গেরুয়া বসন পরে তিনি কখনও ঘৃণা ছড়াননি। তিনি বিশ্বাস করতেন একজন মা যেমন তার সমস্ত সন্তানকে সমান স্নেহে পালন করেন, হিন্দু ধর্মকেও তেমন হতে হবে । কাশ্মীরের ক্ষীরভবানী মন্দিরের সেই ঘটনাটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ঈশ্বরকে রক্ষা করার কোনো ইজারা মানুষের কাছে নেই। যখন বিবেকানন্দ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখে দুঃখিত হয়ে মা-কে রক্ষা করার কথা ভেবেছিলেন, তখন দৈববাণী হয়েছিল— “তুই আমাকে রক্ষা করবি, নাকি আমি তোকে রক্ষা করি?” । এই উপলব্ধিটাই রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদীদের জন্য এক বড় শিক্ষা হতে পারে, যারা ধর্মের নামে হিংসা বা আস্ফালন করতে পছন্দ করেন। হিন্দু খতরে মে হ্যায় বলে তাঁরাই হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করার মত কথা বলেন। রাজনৈতিক হিন্দুত্ব যেখানে ‘ভয়’ এবং ‘অবিশ্বাস’ ছড়িয়ে নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করতে চায়, বিবেকানন্দের হিন্দুত্ব সেখানে ‘নির্ভীকতা’ এবং ‘প্রেমের’ ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বলতেন, “বিস্তারই জীবন, সংকোচনই মৃত্যু।” অর্থাৎ, যখনই আমরা অন্যকে পর ভাবি বা অন্যকে ঘৃণা করি, তখনই আমাদের মৃত্যু শুরু হয় 。 বিবেকানন্দের সেই কালজয়ী উক্তি— “Help and not fight, assimilation and not destruction, harmony and peace and not dissension” সাহায্য করো, লড়াই নয়; গ্রহণ করো, বিনাশ নয়; সম্প্রীতি ও শান্তি আনো, কলহ নয়— আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক । গেরুয়া বসনের আড়ালে যদি সহনশীলতা এবং ভালোবাসা না থাকে, তবে তা বিবেকানন্দের গেরুয়া নয়, তা কেবল একটা রাজনৈতিক পোশাক। বিবেকানন্দের হিন্দুত্ব ছিল শাশ্বত, যা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে মুক্তি দেয়। আর আজকের রাজনৈতিক হিন্দুত্ব হলো একেবারেই ক্ষমতার দাস, যা মানুষকে জানোয়ার করে তোলে। বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্ম ছিল মুক্তির গান, যা আজও আমাদের গেরুয়া মনে সহনশীলতার মন্ত্র শুনিয়ে যায়। রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে ব্যবহার না করে, তাঁর আদর্শকে গ্রহণ করাই হতে পারে আধুনিক ভারতের প্রকৃত পুনর্জাগরণ। বিবেকানন্দের সেই হিন্দুত্বের আলো যেন আমাদের সংকীর্ণতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে এক সুন্দর, ঐক্যবদ্ধ ভারতের পথ দেখায়।

Read More

Latest News