আলিপুরদুয়ার: লোকালয়ে ঢুকে একের পর এক মানুষকে কামড়ে জখম করার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াল আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar)। চিতাবাঘের হামলায় (Leopard Attack) এক শিশু-সহ মোট সাত জন আহত হয়েছেন। পরে ওই চিতাবাঘটিকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের শিশাবাড়ি সরুগাঁও গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে দলগাঁও রেঞ্জের অধীনে শিশাবাড়ি সরুগাঁও গ্রামে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘ ঢুকে পড়ে। প্রথমে চিতাবাঘটি একটি শিশুকে কামড়ে ধরে বলে অভিযোগ। শিশুটিকে বাঁচাতে তার বাবা চিতাবাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় চিতাবাঘটি শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে আরও কয়েক জনের উপর হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা নিয়ে কটাক্ষ দিলীপের, বললেন ‘বাপের নাম পাল্টে যাচ্ছে, ছেলে বেড়ে যাচ্ছে’
চিতাবাঘের হামলায় গ্রামে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অভিযোগ, আতঙ্কের মধ্যেই কিছু মানুষ কোদাল ও লাঠি নিয়ে চিতাবাঘটিকে ঘিরে ধরে এবং পিটিয়ে খুন করে। ঘটনায় গোটা গ্রামজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জলপাইগুড়ি বনদপ্তরের দলগাঁও রেঞ্জের বনকর্মীরা। চিতাবাঘটির দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বনদপ্তর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার আদালতের অনুমতি নিয়ে চিতাবাঘটির ময়নাতদন্ত করা হবে।
জলপাইগুড়ি বনদপ্তরের ডিএফও ভি বিকাশ বলেন, “চিতাবাঘটি গ্রামের বেশ কয়েক জনকে জখম করেছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর ফের লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর ঢুকে পড়া ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, চিতাবাঘ হত্যা নিয়ে বন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।







