বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার (Bankura) শালতোড়ায় সেন্টিনারি কলেজ মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জনসভা ঘিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা দলীয় শিবিরে। সভার আগে থেকেই এলাকায় জোর প্রস্তুতি চলছে। জানা যাচ্ছে, সভামঞ্চের পাশাপাশি বিশেষ র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, যেখানে হেঁটে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন অভিষেক।
রাজনৈতিকভাবে শালতোড়া তৃণমূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন হাতছাড়া হয়ে বিজেপির দখলে যায়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে শালতোড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল। সেই ফলকে পুঁজি করেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়া পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েছে শাসক দল। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই আগাম মাঠে নামানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ীকে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুন: গঙ্গাসাগর মেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, ভস্মীভূত একাধিক ছাউনি
অন্যদিকে, শালতোড়ার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পাথর ক্রাসার শিল্পও উঠে আসছে আলোচনায়। শিল্প বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কিছু পাথর ক্রাসার চালু হলেও পরে সেগুলি ফের বন্ধ হয়ে যায়। এবার তাঁর সভাকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা। তাঁদের একাংশের ধারণা, অভিষেকের শালতোড়ায় আগমন পাথর শিল্প পুনরুজ্জীবনের পথ খুলতে পারে।
তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, এই সভা শালতোড়ার জন্য বড় প্রাপ্তি। পাথর শিল্প নিয়ে রাজ্য সরকার ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবনাচিন্তা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও এই বিষয়ে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ রয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, পাথর ক্রাসার শিল্প বন্ধ হওয়ার দায় রাজ্য সরকারেরই। শালতোড়ায় বিজেপি জেতার পর ইচ্ছাকৃতভাবেই এই শিল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিষেকের সভা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরী।
সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই বন্ধ শিল্প ফের চালুর আশায় তাকিয়ে রয়েছেন শালতোড়ার হাজার হাজার শ্রমিক।







