নয়াদিল্লি: তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই (RTI Act) নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইউপিএ (UPA) আমলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি এই আইনে ‘অপ্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা’ প্রশাসনিক কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, এমনই দাবি উঠে এসেছে বৃহস্পতিবার লোকসভায় (Lok Sabha) পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে। এর জেরে বহু সরকারি নথি ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা ভবিষ্যতে আরটিআইয়ের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আরটিআই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আইনকে এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। অত্যধিক তথ্য প্রকাশের ফলে প্রশাসনিক আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নিজেদের মতামত খোলাখুলি জানাতে ভয় পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
আরও পড়ুন: কালই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন, থাকবেন জ্ঞানেশ কুমার
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, কোনও সিদ্ধান্তের আগে তৈরি হওয়া খসড়া নথি, অভ্যন্তরীণ আলোচনা কিংবা প্রাথমিক প্রস্তাবগুলি প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনিক গতিতে প্রভাব পড়ছে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মূল চেতনাকে বজায় রেখেই এই ধরনের নথিকে আরটিআই আইনের বাইরে রাখার কথা ভাবা যেতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, কোনও বিষয়ে কেবলমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আরটিআইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতে পারে।
এছাড়াও সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, চাকরিজীবনের রেকর্ড, বদলি সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত নথি গোপন রাখার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সমীক্ষায়। রিপোর্টে ইঙ্গিত, এই ধরনের তথ্য প্রকাশ প্রশাসনিক কাজে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে বিরোধীদের কড়া অভিযোগ, আরটিআই আইনে এই ধরনের সংশোধনী আনা হলে কার্যত তথ্যের অধিকার আইনকেই দুর্বল করে দেওয়া হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।







