কলকাতা: আই-প্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার দফতরে ইডির (ED) তল্লাশি ঘিরে দায়ের হওয়া জোড়া মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এজলাস ছেড়ে উঠে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। ফলত, মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে ইডির দায়ের করা মামলার পাশাপাশি ইডির ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলারও এদিন শুনানি ছিল। তবে শুনানির শুরুতেই এজলাসে নজিরবিহীন ভিড় ও হইচই শুরু হয়।
আরও পড়ুন: রাজভবনে বিজেপির প্রতিনিধি দল, সাংবিধানিক লঙ্ঘনের অভিযোগ
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন এজলাসে আইনজীবীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হই-হট্টগোলের জেরে শুধু এই মামলাই নয়, তালিকাভুক্ত অন্যান্য মামলার শুনানিও কার্যত ব্যাহত হচ্ছিল। এজলাসের বাইরে যেমন ভিড় জমে উঠেছিল, তেমনই ভিতরে থাকা আইনজীবীরাও বেরোতে চাইছিলেন না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী ছাড়া সকলকে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাঁর নির্দেশ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। বারবার অনুরোধ উপেক্ষিত হওয়ায় বিরক্ত হয়ে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান। এর জেরেই শুনানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাইকোর্ট সূত্রে খবর, আগামী ১৪ জানুয়ারি ইডি ও তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা দুই মামলার ফের শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবারই ইডির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গেই চলছিল। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের ঠিকানায় গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আই-প্যাকের অফিসে পৌঁছয়, সেখান থেকেও নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি।
ইডির বক্তব্য, এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। সংস্থার আরও দাবি, এই তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ প্রমাণভিত্তিক এবং আইন মেনেই চালানো হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বা কোনও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। নির্বাচনের সঙ্গেও এই অভিযানের কোনও যোগ নেই বলে ইডির দাবি। এটি একটি আর্থিক নয়ছয় সংক্রান্ত মামলার অংশ।
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক কাণ্ড ঘিরে হাইকোর্টের এদিনের ঘটনা রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি বিচারাঙ্গনেও তীব্র আলোড়ন তৈরি করেছে।







