নদিয়া: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) । তার আগেই মায়াপুরে (Mayapur) গিয়ে হিন্দুত্বে শান দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবেই তুলে ধরলেন তিনি। ভোটের আগে তাঁর এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। অদিন শাহে মুখে শোনা গেল হরে কৃষ্ণ। তিনি বলেন, চৈতন্যদেব ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়েছিলেন। একটা গোটা জীবন শ্রীকৃষ্ণকে দিয়ে দেওয়া যথেষ্ঠ কঠিন বিষয়। এখানে এসে চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পেলাম। তাঁকে বলতে শোনা গেল, এমনকী বহুবার মায়াপুরে আসার ইচ্ছা থাকলেও যে তা বারবার পিছিয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে আক্ষেপও ধরা পড়ে শাহের বক্তব্যে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাত্র দেড় ঘণ্টার বঙ্গ সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্ম উৎসব উপলক্ষে এদিন মায়াপুরে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমিত শাহ। সেখানে পৌঁছেই প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন। এরপর সরাসরি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন শাহ। মায়াপুরে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণবার্তা শাহের মুখে। ভক্তদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ”মায়াপুরে আসার আগে সকালেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মায়াপুর আসার কথা আমি তাঁকে জানিয়েছিলাম। উনি মন থেকে মায়াপুরের সকল ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন।”
আরও পড়ুন: মায়াপুরে অমিত শাহ, দেখুন সরাসরি
শাহের সংযোজন,”সভার শুরুতেই আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে সম্বোধন করা হল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমি এখানে আসিনি। চৈতন্য মহাপ্রভুর অনন্য ভক্ত হিসেবে আজ আমি এখানে এসেছি৷’’ শুধু তাই নয়, শাহ আরও বলেন, ”ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চৈতন্যদেব। আর সেই আন্দোলন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এদিন শাহ বলেন, আমি আমার জীবনে অনেক বড় বড় ধর্ম পুরুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তবে আমদাবাদের একজন সাধু বলেছিলেন, উনি আমার সেবক। এই ভাবনা মনে থাকলে ঈশ্বর দূরে থাকে না। ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বামীকে বলব, আপনিই যথার্থই একজন গুরু।আধুনিকতা ধর্মের শত্রু নয়। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি অচল, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা অটুট তখনই সব বাধা পেরিয়ে যাওয়া যায়।ভোটের আগে শাহের মায়াপুর সফর ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
ওয়াকিবহালমহলের মতে, ভোটের আগে মায়াপুরে এসে একদিকে সুকৌশলে হিন্দুত্বে শান দেওয়ার চেষ্টা করলেন শাহ।রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআরের জেরে মতুয়াদের নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারজেরে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে রাগকে প্রসমন করছে। আগের বার বঙ্গ সফরে মোদি এলেও মতুয়াদের নিয়ে একটি বাক্যও খরচ করেননি।সেই ক্ষতেই প্রলেপ লাগাতে ভোটের আগে মায়াপুরের সফরে শাহ।







