বেলুড়- এলপিজির সঙ্কটে (LPG Crisis) বিপাকে বেলুড় শ্রমজীবী হাসপাতাল (Belur Sramajibi Hospital)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে এলপিজির সঙ্কট শুরু হয়েছে। এবার হাসপাতালেও এর প্রভাব ফেলল। বেলুড়ের শ্রমজীবী হাসপাতালে গত কয়েক দিন ধরে চলছে LPG সংকট। প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার না পেয়ে বিকল্প হিসাবে কাঠের উনুনে রান্না করতে হচ্ছে ষাট শয্যার ঐ হাসপাতালকে।
বেলুড় শ্রমজীবী হাসপাতাল দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত রোগীদের পরিষেবা দিয়ে আসছে ১৯৯৪ সাল থেকে। এই হাসপাতালে রোগিদের রান্না করা খাবার দেওয়ার পরিকাঠামো আছে শুরু থেকেই। চিকিৎসক রোগি ও কর্মী মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনের রান্না প্রতিদিন হয়। শ্রমজীবী পাঠশালাতেও রোজ প্রায় দেড়শোজন খান। গত কয়েকদিন ধরে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালেও এলপিজি সংকটে পড়েছে। দশটি সিলিন্ডারের প্রয়োজন থাকলেও এই মুহূর্তে মিলছে একটি বা দুটি সিলিন্ডার। ফলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তৈরি হয়েছে কাঠের উনুন (wood stove)।
কেনা হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। শুধু হাসপাতালের রোগীরাই নয়। বিপাকে পড়ছেন রোগি আত্মীয়স্বজনও। হাসপাতালের আশেপাশে যেসমস্ত ছোটছটো খাবারের দোকান আছে, রোগির বাড়ির লোকেরা এতদিন সেখানেই খাওয়াদাওয়া সারতেন। কিন্তু এলপিজির অভাবে সেগুলিও বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে রোগি ভর্তি করে বা অপারেশনের দিন দীর্ঘক্ষণ খাবার পাচ্ছেন না রুগীর আত্মীয় পরিজন।
পাশাপাশি এলপিজির অভাবে অধিকাংশ অটোচালক বন্ধ রেখেছেন অটো পরিষেবা। ফলে শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতাল থেকে শেওড়াফুলি স্টেশন পর্যন্ত অটোরিকশা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে রোগিদের যাতায়াতে। সাম্প্রতিক কালের এই সঙ্কট অতীতে কখনও হয়নি। বহু জটিল অপারেশন শ্রমজীবী হাসপাতালে হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসেন রোগি। যাঁদের পক্ষে বাড়ি থেকে খাবার আনা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন- কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের বিদায় কবে? সময় জানিয়ে দিলেন মমতা
শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালের রন্ধনকর্মী বাসুদেব আঁকুড়ের কথায়, এভাবে কাঠে রান্না করা খুবই কষ্টকর। হাসপাতালে ধোঁয়াও হয়। কোনও রকমে একটি-দুটি পদ রান্না হচ্ছে।
হাসপাতালের সহসম্পাদক গৌতম সরকারের বক্তব্য, এভাবে কদিন চালানো যাবে বুঝতে পারছি না। রুগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও হাসপাতালের সকল স্তরের সেবিকা, কর্মীদের খাবার দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এলপিজি সরবার নিশ্চিত করুক







