Monday, May 4, 2026
HomeScrollAajke | অধীর ফিরতে পারবেন বিধানসভায়?
Aajke

Aajke | অধীর ফিরতে পারবেন বিধানসভায়?

বহরমপুর যা নাকি এককালে ‘অধীরগড়’ ছিল, সেই আসনে অধীর চৌধুরী কি জিতে বিধানসভায় আসবেন?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

বর্তমান, অতীত আর ভবিষ্যৎ, তিনটে আলাদা সময়, নানান অঙ্ক কাটাকুটির পরে, ওই একটা লাইন বড্ড কাজের, কবীর সুমনের লাইন, ‘হঠাৎ কি ঘটে যায় কিচ্ছু বলা যায় না’। ২০০৬-এর কথা মনে আছে? তৃণমূলের স্লোগান হয় ‘এবার নয় নেভার’, মেলেনি। ২৩৫ বামফ্রন্ট, সেই গর্বিত উচ্চারণ, ‘আমরা ২৩৫ ওরা ৩৫’, মনে আছে? মাত্র ১৫টা বছর পরে তারা বিধানসভাতে শূন্য। সেই ৭৭ থেকে রাজনৈতিক আলোচনার সময়ে অনিবার্যভাবে বলা হত কিছু আসনের কথা, যেখানে নাকি ল্যাম্পপোস্টকে কাস্তে হাতুড়ি সিম্বল নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলে ল্যাম্প পোস্টও জিতে যাবে, সেরকম আসনের অন্যতম যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ১৬ হাজার ভোটে হেরে গেলেন। হয়, এরকম হয়, রাজনীতিতে তো প্রায়শই হয়। জরুরি অবস্থার শেষ দিকে বহু মানুষকে বলতে শুনেছি, ‘কংগ্রেসকে আগামী ১০০ বছরেও সরানো যাবে না’, নির্বাচনের পরে ভেসে গিয়েছিল। বাম জামানায় মানুষ বলতেন, ‘এ জামানা অজর অমর অক্ষয়’। ঠিক সেরকম মালদহতে ‘গণি খানই জিতবেন’ সেটা ছিল এক ধারণা, যা ভাঙেনি। সেরকমই এক ধারণা গড়ে উঠেছিল অধীর চৌধুরীকে নিয়ে, বহরমপুর? ‘অধীর গড়’। সেই ১৯৯৯ থেকে বহরমপুর লোকসভা ২০১৯ পর্যন্ত ছিল অধীর চৌধুরীর হাতে। হ্যাঁ, মালদহ গণি খানের, বহরমপুর অধীরের। কিন্তু হঠাৎই সে জামানা গেল, ৮৫ হাজার ভোটে হেরে গেলেন ‘অধীরগড়’ থেকে অধীর চৌধুরী। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি এবারে বিধানসভাতে লড়বেন ওই বহরমপুর থেকেই, সেটাই বিষয় আজকে, অধীর ফিরতে পারবেন বিধানসভায়?

সে এক সময় গিয়েছে অধীর চৌধুরীর জীবনে, আরএসপি-র ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এক রবিনহুডের জন্ম হয়েছিল বহরমপুরে, শহরের এক বিশাল বাহিনী, বলা ভালো সাইকেল বাহিনী, তখন এই সাইকেল ক্যারিয়ারেই বাংলাদেশে পাচার হত কলগেট থেকে লাক্স সাবান, মশলা থেকে চা গুঁড় দুধ। আর সেই বাহিনী ছিল অধীর অনুগামী। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অধীর চৌধুরীকে গুন্ডা বলেছিলেন, পুলিশ পড়েছিল পিছনে, সোমেন মিত্রের আশ্রয়ে ছিলেন অধীর। তো বাম জমানায় ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে সিপিএমের মুজফ্ফর হোসেনকে ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে প্রথমবার বিধানসভায় এসেছিলেন অধীর। পুলিশের তাড়ায় এলাকাছাড়া কংগ্রেস প্রার্থীর সে সময়ে প্রচারের অনেকটাই হয়েছিল ক্যাসেট বাজিয়ে! হ্যাঁ, মানুষ বহরমপুরের মোড়ে মোড়ে অধীর চৌধুরীর ভাষণ শুনেছিলেন। জেতার পরে ফুল মালা গলায় অধীর ঢুকেছিলেন নবগ্রামে, বহরমপুরে। আর ক’দিন পরেই ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়ে যাওয়ায় বিধায়ক-পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন। তারপর পাঁচ বছর বহরমপুর ছিল ‘অধীরগড়’। সেই জয়ের ভিত্তি কী ছিল? মুসলমান মানুষজনের সলিড সাপোর্ট, কোনও ভাগাভাগি নয়। আর হিন্দু ভোটেরও একটা বড় অংশ, হ্যাঁ, সেটাই ছিল অধীর ম্যাজিকের গোপন মন্ত্র। যা চুরমার হয়ে গেল ২০২৪-এ। হ্যাঁ, তৃণমূলের একে ভিআইপি তারওপরে মুসলিম ক্যান্ডিডেট ইউসুফ পাঠান, মুসলমান ভোট নিয়ে গেল, বিজেপি প্রার্থী নিয়ে গেল হিন্দু ভোট, না এমনটা এর আগে আমাদের রাজ্যে হত না, কিন্তু ২০১৯ থেকে এটা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: Aajke | বদলাচ্ছে তৃণমূল, পাল্টাচ্ছে তৃণমূল

অধীর চৌধুরী হারলেন, বড় মার্জিনে হারলেন। এবারে কী হবে? তৃণমূল কংগ্রেস আর কংগ্রেস জোট হলে বলার অপেক্ষা ছিল না যে অধীর চৌধুরী জিততেন, কিন্তু তাঁর প্রায় সিপিএম এর মতোই এক ‘তৃণমূল অ্যালার্জি’ আছে, তৃণমূল নেত্রী থেকে শুরু করে নেতা কর্মীদেরও অধীরের জন্য ওই ‘একস্ট্রা টু এ বি’ আছে, একটু বেশি রাগ, অ্যালার্জি। কাজেই জোট হয়নি। অতএব অধীর চৌধুরীর লড়াই এবারেও একইরকম শক্ত, বহরমপুর কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ভাগাভাগিতে চলে যাবে বিজেপির হাতে, আবারও। হ্যাঁ, গতবারের ফলাফলটা দেখুন না, তৃণমূলে সেবারেও প্রার্থী সেই নাড়ুগোপাল মুখার্জি, যিনি এবারেও প্রার্থী, সেবারে পেয়েছিলেন ৩১.৬২ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ২০ শতাংশ ভোট, আর বিজেপি সুব্রত মিত্র পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। এবারে অধীর চৌধুরী অনেকদিন পরে বিধানসভায় প্রার্থী বলেই হয় তো কংগ্রেস কিছু বেশি ভোট পাবে, কিন্তু ভোট ভাগাভাগিতে আবার পরাজয় নাচছে অধীর চৌধুরীর কপালে। হ্যাঁ, গোটা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আর কংগ্রেসের সমঝোতা হলে কংগ্রেস অনায়াসে গোটা ৯-১০ আসন পেয়ে যেত, কিন্তু তা হয়নি, অন্য আর কয়েকটা আসনে কংগ্রেস হয়তো জিতে যাবে। কিন্তু বহরমপুর আজ অবধি কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে নেই, অধীরের সেদিন গিয়েছে বহু আগেই। আমরা আমাদের দর্শকদের প্রশ্ন করেছিলাম, একটানা পাঁচবার বহরমপুরের সাংসদ থাকার পরে ২০২৪-এ হেরেছিলেন অধীর চৌধুরী, আজ আবার তিনি সেই বহরমপুরেই বিধানসভার প্রার্থী। বহরমপুর যা নাকি এককালে ‘অধীরগড়’ ছিল, সেই আসনে অধীর চৌধুরী কি জিতে বিধানসভায় আসবেন? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

এক বাম আবহে বেড়ে ওঠা যুবক রবিনহুড হয়ে উঠেছিল, এলাকার ছেলেদের কাছে, যে পুলিশের মুখোমুখি হতে পারে, সেই জামানাতে সিপিএম-এর মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে, এলাকার বেকারদের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সেই জামানাতে রাত-বিরেতে দমকল না পাওয়া গেলেও অধীর চৌধুরীকে পাওয়া যেত। হ্যাঁ, সেই রবিনহুড দিল্লি চলে গেলেন, বিরোধী দলনেতা হলেন, ছকে বাঁধা রাজনীতিবিদ হলেন, আর সেই ছকবাজি রাজনীতির শিকারও হলেন। হ্যাঁ, এরকম হয়, চোখ বুজে রবিনহুডের চেহারাটা কল্পনা করুন, সে চেহারার মধ্যে কোনও পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদকে খুঁজে পাবেন না। অন্যদিকে অধীর চৌধুরী আজ এক পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ, রবিনহুডের ছায়ার উপরে সংসদ আর সংসদীয় রাজনীতির এত আলো পড়েছে যে, সে ছায়া আজ ভ্যানিশ।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs slot gacor situs toto slot gacor toto https://josephmellot.com/nos-vins/ https://todayinnewsfocus.com/ BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188