ওয়েব ডেস্ক: রবিবার রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সানরাইজার্সকে (Sunrisers Hyderabad) হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। আর নাইটদের জার্সিতে মাঠে নামতেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম তুলে নিলেন মনীশ পান্ডে (Manish Pandey)। আইপিএলের (IPL 2026) ইতিহাসে বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এবং রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টানা ১৯টি মরশুমে অন্তত একটি করে ম্যাচ খেলার বিরল নজির গড়লেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
যদিও খ্যাতি বা পরিসংখ্যানের বিচারে কোহলি বা রোহিতের থেকে কিছুটা পিছিয়ে, তবুও মনীশের দীর্ঘ এবং ধারাবাহিক আইপিএল কেরিয়ার নিঃসন্দেহে বিশেষ সম্মানের দাবি রাখে। তাঁর যাত্রাপথও অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, লখনউ সুপার জায়ান্টস এবং দিল্লি ক্যাপিটালস—একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক সবচেয়ে আবেগঘন।
আরও পড়ুন: SRH-কে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক KKR-এর! প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকলেন রাহানেরা?
বিশেষ করে ২০১৪ সালের ফাইনালে তাঁর ৯৪ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস আজও কেকেআর সমর্থকদের মনে উজ্জ্বল। পাশাপাশি ২০২৪ সালে দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মনীশের নাম আইপিএলের ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে আরেকটি কারণে। তিনি এই লিগে প্রথম ভারতীয় হিসেবে শতরান করেছিলেন। ২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ১১৪ রানের সেই বিধ্বংসী ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল।
পরিসংখ্যানের নিরিখে ১৭৪টি ম্যাচে ৩,৯৪২ রান করেছেন মনীশ, যার মধ্যে রয়েছে ২২টি অর্ধশতরান এবং একটি শতরান। শুধু অতীত নয়, সাম্প্রতিক সময়েও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন তিনি, গত মরশুমে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৪৬।
রবিবার কেকেআরের প্রথম একাদশে তাঁর প্রত্যাবর্তন তাই নিছক একটি ম্যাচে অংশগ্রহণ নয়, বরং আধুনিক ক্রিকেটে ফিটনেস, অধ্যবসায় এবং ধারাবাহিকতার এক অনন্য উদাহরণ। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও যেভাবে তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
দেখুন আরও খবর:







