কলকাতা: নির্বিঘ্নে ভোটপর্ব মেটার পর এ বার গণনা ঘিরেও কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সোমবার ফল ঘোষণার আগে রাজ্যজুড়ে ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে তৈরি হয়েছে কার্যত ‘দুর্গতুল্য’ নিরাপত্তা বলয়। কড়া বিধিনিষেধ, বহুস্তরীয় নজরদারি, সব মিলিয়ে লক্ষ্য একটাই, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ গণনা।
কমিশন সূত্রে খবর, এ বার ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন কেন্দ্রের গণনা প্রক্রিয়ায় সরাসরি নজর রাখবেন। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির জন্য মোতায়েন থাকছেন ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে তাঁরা কোনও অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না, বাইরেই থাকবে তাঁদের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: গণনায় গাফিলতি মানেই চাকরি ‘গেল’! ভোটের আগে কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি
গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি থাকবে ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪)। অর্থাৎ, গণনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাঁচ জনের বেশি জমায়েতও করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের লক্ষ্য, কোনও রকম উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি আগেই রুখে দেওয়া।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে, তার পর ধাপে ধাপে ইভিএমের ভোট গণনা। কোথাও পোস্টাল ব্যালট না থাকলে সরাসরি ইভিএম গণনাই শুরু হবে।
প্রবেশ ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে কড়াকড়ি। ECI.NET-এর মাধ্যমে জারি করা QR কোড-ভিত্তিক ফটো আইডি ছাড়া গণনাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি নেই। গণনাকর্মী, প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্ট সবার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। মোবাইল ফোন নিয়েও রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ গণনা পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসার ছাড়া কেউই ভিতরে ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, এবার মোট ২৯৩টি আসনের ফল নির্ধারিত হবে এই গণনা পর্বে। কমিশনের দাবি, একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ও নজরদারির ফলে গণনা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন। এখন দেখার, ফল ঘোষণার দিন এই কড়াকড়ি কতটা সফল হয়।







