Friday, May 15, 2026
HomeBig news‘জাসি জ্যায়সি কোই নহী’র নান্দু আজ ‘ধুরন্ধরের’ মহম্মদ আলম, সাফল্যের মাঝে অতীতের...
Gaurav Gera

‘জাসি জ্যায়সি কোই নহী’র নান্দু আজ ‘ধুরন্ধরের’ মহম্মদ আলম, সাফল্যের মাঝে অতীতের স্মৃতি হাতরালেন অভিনেতা

২৮ বছর আগে বাবা-মাকে লেখা চিঠির পাতা ওল্টালেন অভিনেতা গৌরব গেরা

ওয়েবডেস্ক-   ২০’ দশক! একটি সিরিয়াল মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল। নাম ছিল ‘জাসি জ্যায়সি কোই নহী’ (‘Jassi Jaissi Koi Nahin’) । যেখানে অভিনয় করেছিলেন মোনা সিং। নিতান্ত সাধারণ একটি পরিয়ারের মেয়ে ছিলেন জাসি। গুণ থাকলেও রূপ ছিল না। তাই সব জায়গা থেকেই তাকে শুনতে হত নানা ধরনের কটূক্তি। জাসি তার জীবনের সমস্ত সুখ দুঃখের কথা ভাগ করে নিতেন তাঁর পাপাজির (বাবা) র সঙ্গে। আর জনপ্রিয় এপিসোডটিতে আরও একটি ক্যারেকটার ছিল, যার নাম ছিল ‘নান্দু’ (Nandu) । জাসির প্রিয় বন্ধু। একজন সৎ, বিশ্বাসী, বন্ধুবৎসল বন্ধু ছিল এই নন্দু। যার কাছে জাসি তাঁর সব মনের কথা এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলতে পারতেন। এই নন্দুর অর্থাৎ গৌরব গেরা (Gaurav Gera)। নান্দু সেই ঘরে ঘরে একটি নাম হয়ে উঠেছিল।

নন্দু ছিল সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরের ছেলে। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের সেই চিরাচরিত ‘শাশুড়ি-বউমা’ঘরানার নাটকের ধারাটি ভেঙে দিয়েছিল এই ‘জাসি জ্যায়সি কোই নহী’। সেই গৌরব গেরা (Gaurav Gera) আজ প্রশংসা কুড়িয়েছেন ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিতে মহম্মদ আলমের চরিত্রে অভিনয় করে।

এই স্পাই-থ্রিলার ছবিটি বক্স অফিসেও দারুণ সাড়া ফেলেছে।  এর মধ্যেই অভিনেতা তাঁর মুম্বইয়ের শুরুর দিনগুলোর একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। সেই চিঠি ১৯৯৮ সালের।  রবিবার গৌরব তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি হাতে লেখা চিঠির ছবি পোস্ট করেন গৌরব।  চিঠিটা তিনি ১৯৯৮ সালে তাঁর বাবা-মাকে লিখেছিলেন। তখন তিনি অভিনয় জগতে নিজের ভাগ্যের সঙ্গে লড়াইতে ব্যস্ত। এর জন্য তিনি দিল্লি থেকে এই স্বপ্নের নগরী মুম্বইতে এসে হাজির হন। এই পোস্টের মাধ্যমে গৌরব তাঁর ২৮ বছরের যাত্রার কথা মনে করেছেন। সেই সময় তাঁর জীবন ছিল একদম সাদামাটা। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে একটা ছোট কটেজে থাকতেন এবং  এই নতুন শহরে টিকে থাকার জন্য তিনি তখন লড়াই শিখছিলেন। সেই সময়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন,  “অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জলের বিল আর খাবার। মাম্মা-পাপা, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, কিন্তু আমাকে এখনও অনেক কিছু শিখতে হবে।” এই কথাগুলো থেকেই তাঁর ধৈর্য আর স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস, টিকে থাকার লড়াই করার জন্য যে চেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা বোঝা যায়। ইন্সটাগ্রামে এই পোস্ট সেটি রয়েছে (@gauravgera) নামে

বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে গৌরব লিখেছেন, ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮… মুম্বইয়ে আসার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে… এটা ২৮ বছর আগের কথা,  তখন তো ইমেল ছিল না, চিঠিই ভরসা,  এর পর  প্রচুর টিভি সিরিয়াল, কিছু সিনেমা, বিজ্ঞাপন, নাটক, রেডিও, টিকটক, রিলস,  উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে একটা দারুণ যাত্রা… ঈশ্বর সদয় ছিলেন… কিন্তু এই ধুরন্ধর… জানি না ভবিষ্যতে কী লিখে রেখেছে, তবে আমি আমার ২৩ বছরের নিজেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আশা ধরে রাখার জন্য আর মা-বাবাকে তাঁদের অত্যন্ত সাপোর্টের জন্য। #DhurandharTheRevenge।”

 

আদিত্য ধর পরিচালিত এবং রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিটি ১৯ মার্চ মুক্তি পেয়েছে এবং বক্স অফিসে এখনও দারুণ ব্যবসা করছে, সাফল্য পেয়েছে।

গৌরব গেরা দৈনিক ধারাবাহিকের নিশ্চিত নিরাপত্তা ছেড়ে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও কন্টেন্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছিলেন এক সময়।  এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। তাঁর চরিত্রগুলো শেষমেশ জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে তিনি ৬০টি ভিডিও তৈরি করেছিলেন, যেগুলোর কোনটি থেকেই প্রায় কোনও সাড়া মেলেনি।

তাঁর ‘চুটকি’ এবং ‘দোকানদার’-এর মতো চরিত্র সৃষ্টি ভারতে ক্রিয়েটর ইকোনমিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল। দ্রুত  কথোপকথন এবং তীক্ষ্ণ ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই স্কেচগুলো অবশেষে গেরাকে ক্যারেক্টার লাইসেন্সিং-এর একটা জায়গায় আলাদা করেছিল। তিনি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে মার্চেন্ডাইজের জন্য কাজ করেছেন এবং এমনকি তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুসারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এক্সক্লুসিভ স্ন্যাপচ্যাট ফিল্টারও পেয়েছিলেন।

২০২৬ সালে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর মাধ্যমে গেরার ক্যারিয়ার এক মাইলফলক বলা যায়।  আদিত্য ধরের পরিচালনায়, তিনি তাঁর কৌতুক অভিনেতার ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে মোহাম্মদ আলম চরিত্রে অভিনয় করেন—করাচির এক জুসের দোকানের মালিক, যিনি গোপনে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করেন। রণবীর শোরের মতো সহকর্মীরা তাঁর অভিনয়কে এক ‘শক্তিধর’ (powerhouse) পরিবেশনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ছবিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে এবং বক্স অফিসে ৭৬১.২১ কোটি টাকা আয় করেছে। গেরার কাছে, এই চরিত্রটি তাঁর প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনের এক চূড়ান্ত প্রাপ্তি।

এর পরেই  তিনি ইনস্টাগ্রামে ১৯৯৮ সালের একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন; সেখানে তিনি তাঁর ২৩ বছর বয়সী সত্তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন—কারণ, যখন বিশ্ব অবশেষে একজন সিরিয়াস অভিনেতা হিসেবে তাঁর অভিনয়-বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিল, সেই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়েও তিনি ‘আশাবাদী’ ছিলেন।

 

 

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto