কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার।নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আসীন হওয়ার পর থেকেই একের পর এক নির্দেশ জারি করছেন। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক বৈঠকে দুর্নীতি নিয়ে জিরো টলারেন্সের বার্তা ও দিয়েছেন তিনি। কোন ধরনের দুর্নীতিকে বর্তমান সরকার যে প্রশ্রয় দেবে না এবং তাকে সমূলে উৎপাটিত করবে তার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে রাজ্যবাসীকে।তিলজলায় একটি অগ্নিকাণ্ডের সময় সংশ্লিষ্ট বাড়িটি বেআইনি ছিল বলে সরকারের নজরে আসার পরেই সংশ্লিষ্ট বাড়িটিকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শহর কলকাতার বুকে এই জাতীয় ঘটনা বিগত দিনে শহর কলকাতার মানুষ চোখে দেখেনি।কলকাতার মেয়র পদে বর্তমানে আশীন রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। মেয়র পদে থাকলেও তিলজলার বেআইনি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কোন আলোচনা তো দূরসত্ব, জানানো হয়নি বলেও মেয়র জানিয়েছেন।
যদিও তিলজলা বেআইনি বাড়িটি ভেঙে ফেলার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন ধরনের মুখ খুলতে চাননি বা মন্তব্য করতে চাননি ফিরহাদ হাকিম। তার একটাই বক্তব্য সরকার যেটা বুঝেছে সেটা করেছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।শহর কলকাতার মানুষের জন্য কলকাতার মেয়র আছেন- মেয়রের চেয়ার আছে- কেবল মেয়রের ক্ষমতা নেই। শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে আগামী সোমবার কলকাতা পুরসভায় মেয়র পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত নাকি সংশ্লিষ্ট বৈঠকের এজেন্ডা বা আলোচনার লিস্ট পুরো কমিশনার মেয়রের অফিসে পাঠাননি। তাই আগামী সোমবার আদৌ মেয়র পরিষদের বৈঠকটি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে মেয়রের ইচ্ছে থাকলেও তিনি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়ে যাওয়ার কারণে তার নির্দেশেরও কোন ভ্যালু নেই এই মুহূর্তে।
আরও পড়ুন: লালবাজারে চিঠি, সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসির
টক টু মেয়র থেকে শুরু করে একাধিক সময়ে এমনকি পুরসভার মাসিক অধিবেশনেও সদর্পে বেআইনি বাড়ি ভেঙে ফেলা ও বেআইনি বাড়ি নির্মাণ বন্ধ করার কথা বারবার বলা হলেও সেই কাজ আদৌ পুরোপুরি বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়নি বর্তমান পুরো বোর্ড। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) অন্দরে কন্ট্রোলিং অফিসার থেকে শুরু করে পদস্থ আধিকারিকরা। এক প্রকার দো টানার মধ্যে রয়েছেন। কার কথা শুনবেন কার কথা শুনবেন না কোন কাজটা আগে করবেন কোন কাজটা আগে করবেন না এ বিষয়টাই তাদেরকে ধনদে রেখেছে।তাই পরিস্থিতি কবে ও কিভাবে স্বাভাবিক হয় সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কলকাতার মানুষ। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভায় মেয়র থেকে শুরু করে মেয়র পারিষদ গনের উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম। পুরো কমিশনারের নিয়ন্ত্রণেই চলছে কলকাতা পৌরসভার কাজকর্ম।







