সিঙ্গুর: যে সিঙ্গুর একদিন টাটার ন্যানো কারখানাকে (TATA Nano Plant) কেন্দ্র করে বাংলার শিল্প মানচিত্রকে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেই সিঙ্গুরই (Singur) আজ শিল্পহীন মরুভূমির মতো পড়ে আছে। সেই জমিতেই ১৮ জানুয়ারি ভাষণ দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আর তাঁর এই সফর ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন—তিনি সেখানে কী বলবেন? অতীতের দায় কি স্বীকার করবেন? নাকি সবটাই হবে রাজনৈতিক কৌশল?
২০০৬–০৭ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের (Singur Protest) সময় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পাশে দাঁড়িয়েছিল বিজেপিও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মঞ্চে এসে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সিঙ্গুরে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজনাথ সিং এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা। তখন গোটা রাজ্য বিজেপি (BJP) প্রকাশ্যে টাটা ন্যানো কারখানার বিরোধিতা করেছিল।
আরও পড়ুন: SIR নিয়ে বিস্ফোরক সৌমিত্র খাঁ! কী বলল জেলা তৃণমূল? দেখুন
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে রাজনৈতিক অবস্থান। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপিতে থাকা মুকুল রায় বলেন, সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানার বিরোধিতা করে ভুল হয়েছিল। একই সময়ে হুগলির বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় টাটাদের সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। বিজেপির এই হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনে রাজনৈতিক মহল বিস্মিত হয়। কিন্তু বাস্তবে ২০১৯ থেকে ২০২৪—এই পাঁচ বছরে টাটারা সিঙ্গুরে ফেরেননি। বরং সেই সময় সাংসদ থাকা লকেট চট্টোপাধ্যায় ২০২৪ নির্বাচনে পরাজিত হন।
ন্যানো প্রকল্প শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুরে হয়নি। কারখানা গড়ে ওঠে গুজরাতে। তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি নিজেই। বাংলার পাশে না দাঁড়িয়ে তিনিই টাটা গোষ্ঠীকে গুজরাতে নিয়ে যান। এই বাস্তবতাও আজ নতুন করে আলোচনায়।
এখন সেই মোদিই আসছেন সিঙ্গুরে ভাষণ দিতে। যেখানে একদিন শিল্পের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেখানে আজ পড়ে আছে অনাবাদি জমি। প্রশ্ন উঠছে, এই মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে তিনি কী বলবেন? তিনি কি স্বীকার করবেন যে সিঙ্গুরে টাটা কারখানা না হওয়ার দায়ে তাঁর দলও সমানভাবে দায়ী? বাম আমলের শিল্পনীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তার জন্য কি কোনও আত্মসমালোচনা শোনা যাবে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে? নাকি এই সফরও হবে নিছক রাজনৈতিক খেলা? এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রাজ্যের মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
দেখুন আরও খবর:







