কলকাতা: সাত সকালে আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা। বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে একযোগে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস এবং শহরের লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাসভবনে শুরু হয় অভিযান। তারপরেই সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপরই আইপ্যাকের অফিস ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থলে জমায়েত হয় তৃণমূলও।
মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে পৌঁছোনোর আগেই সেখানে চলে যান বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সেখানে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারও। কৃষ্ণা জানান, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচার করতেই সেখানে গিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, গোদরেজ ওয়াটার গেটের অফিসে এসে মুখ্যমন্ত্রী পিছনের গেট দিয়ে ঢোকেন। বেরোনোর সময় তাঁর হাতে ছিল সবুজ রঙের একটি ফাইল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তিনি সব নিয়ে এসেছেন। হার্ডডিস্ক, ফোন। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীদের তথ্য নিতে চাইছে ইডি।”
আরও পড়ুন: প্রতীক জৈনের প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য, ইডি সূত্রের খবর, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। জানা গিয়েছে, বুধবার রাতেই দিল্লি থেকে ইডির একটি বিশেষ দল কলকাতায় পৌঁছয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
প্রতীক জৈনের বাড়ির পাশাপাশি পোস্তা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। তদন্ত সূত্রে দাবি, কয়েক বছর আগে এই মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড ও কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি হয়েছিল। সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালা-সহ একাধিকজনকে জেরা করা হয় এবং অর্থলগ্নি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হয়। সূত্রের দাবি, সেই জেরার সূত্র ধরেই উঠে আসে প্রতীক জৈনের নাম। আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্য যাচাই করতেই ফের সক্রিয় হয় ইডি। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে তথ্য সংগ্রহের পর তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে এই তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







