Tuesday, February 17, 2026
HomeScrollFourth Pillar | দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েই মোদিজি আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য চুক্তি করেছেন
Fourth Pillar

Fourth Pillar | দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েই মোদিজি আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য চুক্তি করেছেন

একাধিক প্রশ্ন আড়াল করতেই এক দেশবিরোধী চুক্তিতে সই করলেন আমাদের দেশ বেচে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী?

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

মোদিজি সাক্ষাৎকার দিলেন, অনেকে শুনেই আঁতকে উঠবেন, টেলি-প্রম্পটারে লিখে দেওয়া ভাষণ দিয়ে অভ্যস্থ মোদিজি মেশিন বিগড়ে গেলে এক লাইন বক্তৃতা দিতে পারেন না, সেই তিনি যিনি আজ অবধি এক রেকর্ড সৃষ্টি করা প্রধানমন্ত্রী, যিনি একটাও সাংবাদিক বৈঠক করেননি, তিনি একটা সাক্ষাৎকার দিয়ে দিলেন? হ্যাঁ, দিয়েছেন, আর সেটাও আবার যা তা বিষয়ে নয়, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। হ্যাঁ, সেটাই তো জানানো হল আমাদের। তারপর পড়তে গিয়ে আসল তথ্যটা সামনে এল, তিনি লিখিত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। মানে ওনাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, উনি টুকে পাশ করেছেন। কারণ পালটা আরেকটা প্রশ্ন করার তো কেউ নেই। তো যাই হোক সেই ‘ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক’, মানে ‘মন কি বাত’-এ তিনি জানিয়েছেন যে ভারত–আমেরিকা চুক্তি নাকি দেশের উন্নতি আর বিকাশের সহায়ক হবে। আসুন আমরা একে একে এই চুক্তি কীভাবে দেশের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়েই করা হয়েছে, সেটা আলোচনা করি। ভারতের সবথেকে বড় সম্পদ হল, তার এক বিরাট চাহিদা আছে এমন বাজার, যে বাজারের চাহিদা পুরো ইউরোপের কাছাকাছি, হ্যাঁ, সেদিকেই তো আপাতত সবার লক্ষ্য। ভারতের সেই বিশাল বাজার আর উন্নয়নশীল অর্থনীতির দোহাই দিয়ে নানান কৌশলে আমেরিকা যে ধরণের ছাড় আদায় করে নিয়েছে, তা আগামীদিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্প, কৃষি ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষক সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের হয়ে উঠবে এ কথা অর্থনীতিবিদরা, যাঁরা এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সামান্যতম জ্ঞান রাখেন, তাঁরা বলছেন। এই চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে আপাতদৃষ্টিতে ভারতের রফতানি খাতের জন্য ট্যারিফ কমাবার কথা বলা হলেও, বাস্তবে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আর গ্রামীণ জীবিকাকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

প্রথম সমস্যা, অসম শুল্ক কাঠামো এবং রফতানি বাণিজ্যে বৈষম্য

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল শুল্ক হার কমানো, কিন্তু এই শুল্ক হ্রাসের ধরণটা ভারতের জন্য অত্যন্ত অসম। চুক্তির শর্ত বলছে, আমেরিকা ভারতের রফতানি পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। অন্যদিকে, ভারতকে আমেরিকার প্রায় সমস্ত শিল্পজাত পণ্য, বিরাট পরিসরের খাদ্য, কৃষি পণ্যের উপর থেকে শুল্ক এবং শুল্ক-বহির্ভূত বাধাগুলোকে হয় সরিয়ে দিতে হবে বা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে হবে। ভারতের মতো এক উন্নয়নশীল দেশের জন্য, তার শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে আইনি অধিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) রয়েছে, এই চুক্তিতে তা কার্যত বিসর্জন দেওয়া হল। যেখানে আমেরিকা এখনও ভারতের পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ ট্যারিফ বজায় রাখছে, সেখানে ভারত কেন আমেরিকার পণ্যের জন্য নিজের বাজার শূন্য শুল্কে খুলে দিচ্ছে, তার কোনও জবাব কিন্তু মোদিজি দিচ্ছেন না। ফলে ভারতের স্থানীয় শিল্প, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো (MSME) ধুঁকে ধুঁকে মরা ছাড়া কোনও গতি থাকবে না। আমেরিকার ভর্তুকি পাওয়া, উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি পণ্যের সাথে ভারতের দেশিয় পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না।

দু’নম্বর কথা হল, কৃষি সার্বভৌমত্ব এবং কৃষক সমাজের উপর আঘাত

সেই ছোটবেলা থেকে আমরা পড়েছি, ভারত এক কৃষিপ্রধান দেশ, ভারতের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল, আর এই বাণিজ্য চুক্তি সরাসরি সেই কৃষি ব্যবস্থাকে চুরমার করবে। ভারত আমেরিকার চাপে পড়ে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ‘ডিস্টিলার্স ড্রাইড গ্রেইনস’ (DDGs), লাল জোয়ার বা সোরগম, সয়াবিন তেল, বিভিন্ন ধরণের বাদাম, ফলের উপর শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, কৃষি খাতকে কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আনা হবে না, কিন্তু এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সেই প্রতিশ্রুতির এক্কেবারে উলটো পথে হেঁটেছে। আমেরিকা থেকে সস্তা, ভর্তুকিযুক্ত কৃষি পণ্য ভারতে এলে দেশিয় বাজারে ফসলের দাম মারাত্মকভাবে পড়ে যাবে। ভারতের সয়াবিন চাষিরা ইতিমধ্যেই সংকটের মধ্যে রয়েছেন, কারণ সয়াবিনের বাজারমূল্য সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) চেয়ে অনেক নিচে নেমে গিয়েছে। আর সেরকম এক সময়ে যদি আমেরিকা থেকে সস্তা সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়, তাহলে ভারতের তৈলবীজ চাষিদের মাথায় বাজ পড়বে। একইভাবে ভুট্টা, জোয়ার চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়বেন, কারণ পশুখাদ্য হিসেবে আমদানিকরা আমেরিকান পণ্য স্থানীয় বাজারের দখল করে নেবে। ফলে বাড়বে দেশজুড়ে কৃষক আত্মহত্যা, বাড়বে গ্রামীণ দারিদ্র্য।

তিন নম্বর কথা হল, জেনেটিক্যালি মডিফাইড (GM) শস্যের অনুপ্রবেশ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি

এই চুক্তির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল, ভারতের বাজারে জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিএম শস্যের পরোক্ষ প্রবেশ। আমেরিকা থেকে যে ‘ডিস্টিলার্স ড্রাইড গ্রেইনস’ (DDGs) আমদানির কথা বলা হয়েছে, তা মূলত জিএম ভুট্টা থেকে তৈরি হয়। ভারত এতদিন পর্যন্ত জিএম খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে এক কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছিল। কিন্তু এই চুক্তির ফলে পশুখাদ্যের আড়ালে জিএম উপাদান ভারতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এটা ভারতের নিজস্ব জৈব-নিরাপত্তা, খাদ্য সার্বভৌমত্বের উপরে এক বড় ধরণের আঘাত। যদি ভারতের গবাদি পশুরা এই জিএম যুক্ত পশুখাদ্য খায়, তাহলে সেই প্রাণি থেকে পণ্য, দুধ, মাংস দিয়ে জিএম উপাদানের প্রভাব মানুষের শরীরেও ঢুকবেই। এছাড়া, ভারত সরকার নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার দূর করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা আসলে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা আইন, লেবেলিং মানে সেই খাবারের লেবের ওপরে কী কী লেখা থাকতেই হবে, সেই বিধিনিষেধকে গ্রাহ্যই করা হয়নি। এর ফলে ভারতের মানুষ অজান্তেই জিএম পণ্য খাবার দাবার খাবে, ব্যবহার করবে, যার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত প্রভাব কী হবে আমরা জানি না।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | মোদিজি, ‘বন্দে মাতরম’ টেলিপ্রম্পটার না দেখে পুরোটা গেয়ে শোনান, তাহলে বুঝবো আপনার দম আছে

চার নম্বর বিষয় হল, দুধ বা দুধ থেকে তৈরি নানান জিনিষের বাজারের সংকট আর তাকে ঘিরে আরও প্রশ্ন

ভারতের দুধ বা দুধ থেকে তৈরি খবারের বাণিজ্য বিশ্বের বৃহত্তম আর এটা কয়েক কোটি কৃষকের দৈনন্দিন আয়ের প্রধান উৎস। আমেরিকার ডেয়ারি শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বাজারে প্রবেশের জন্য মুখিয়ে আছে। বর্তমান চুক্তিতে সরাসরি দুগ্ধ পণ্যের উল্লেখ না থাকলেও, ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ সমাধানের প্রতিশ্রুতি ভারতের দুগ্ধ খাতের রক্ষাকবচগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে, আমেরিকার বিশাল কর্পোরেট ডেইরি ফার্মগুলোর সাথে ভারতের ক্ষুদ্র খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। ভারতের আমুল বা মাদার ডেয়ারির মতো সমবায়গুলো হুমকির মুখে পড়বে। এর ফলে গ্রামীণ ভারতে বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থান, তাদের আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাঁচ নম্বর বিষয় হল, বস্ত্র শিল্প, তুলো চাষে বাংলাদেশের সাথে অসম লড়াই

ভারতের বস্ত্র শিল্প আর তুলো চাষিরা এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। আমেরিকা ভারতের সাথে চুক্তি করার সময় বস্ত্র রফতানির উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক বজায় রেখেছে, কিন্তু বাংলাদেশের সাথে করা এক আলাদা চুক্তিতে তাদের জন্য ‘জিরো শুল্ক’ বা শূন্য শুল্কের সুবিধে দিয়েছে। এই সুবিধের শর্ত হল, বাংলাদেশকে আমেরিকার উৎপাদিত তুলা ব্যবহার করতে হবে। এটা ভারতের জন্য এক ভয়াবহ কৌশলগত মরণফাঁদ। ভারত এতদিন বাংলাদেশের তুলো চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ করত। এখন শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়ার লোভে বাংলাদেশ ভারত থেকে তুলা কেনা বন্ধ করে আমেরিকা থেকে তুলা কেনা শুরু করবে, যা ভারতের তুলো চাষিদের এক বিশাল বাজার থেকে বঞ্চিত করবে। অন্যদিকে, আমেরিকার বাজারে ভারতের তৈরি পোশাক ১৮ শতাংশ শুল্কের কারণে বাংলাদেশের পণ্যের চেয়ে অনেক দামি হয়ে পড়বে, যার ফলে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য বাংলাদেশে চলে যাবে। তিরুপুর, সুরাত, কোয়েম্বাটোরের মতো ভারতের বস্ত্র শিল্প কেন্দ্রগুলো এই শুল্ক বৈষম্যের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

’নম্বর বিষয় হল, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় প্রতিশ্রুতি আর অর্থনৈতিক পরাধীনতা

চুক্তির অন্যতম রহস্যময়, আর বিতর্কিত দিক হল, ভারতের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে আমেরিকা থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য কেনার ‘অভিপ্রায়’ বা ইনটেন্ট। এই কেনার তালিকায় রয়েছে জ্বালানি LNG, এবং অপরিশোধিত তেল, বিমান, বিমানের যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি পণ্য, কয়লা। ভারতের মতো এক দেশের জন্য একটা মাত্র নির্দিষ্ট দেশের কাছ থেকে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অর্থনৈতিকভাবে সাংঘাতিক রিস্কি। এর ফলে ভারত ক্রমশ আমেরিকার উপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে উঠবে। এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর চাপ তৈরি করবে। এছাড়া, মোদিজির গ্রেট বাওয়াল ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ মুখ থুবড়ে পড়বে।

সাত নম্বর বিষয় হল, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার সাথে কৌশলগত সম্পর্কের অবনতি

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির এক অদৃশ্য শর্ত হল, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বন্ধ করা। আমেরিকা স্পষ্টভাবেই দাবি করেছে যে, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে, বিনিময়েই তারা ভারতের উপর থেকে শুল্ক হ্রাস করেছে। ভারতের তেল শোধনাগারগুলো মূলত রাশিয়ার তেলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। আমেরিকার হালকা তেল ব্যবহার করতে হলে শোধনাগারগুলোর প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করতে হবে, যা বেশ খরচাসাপেক্ষ। জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাশিয়ার মতো এক পরীক্ষিত বন্ধুকে ছেড়ে আমেরিকার উপর নির্ভরশীল হওয়া ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের (Strategic Autonomy) জন্যও এক চরম অবমাননা। এটাকে আমেরিকার লেজুড়বৃত্তি ছাড়া আর কিছু বলাই যায় না।

আট নম্বর বিষয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও রাজস্বের ক্ষতি

ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ভারত এই চুক্তির ফলে বড় ধরণের ক্ষতির সামনে গিয়ে দাঁরাবে। ভারত আমেরিকার চাপে পড়ে তার ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ বা ডিজিটাল পরিষেবা কর তুলে নিতে রাজি হয়েছে। আমাজন, গুগল বা ফেসবুকের মতো বড় আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ভারতে ব্যবসা করে যে বিপুল মুনাফা অর্জন করে, তার উপর ভারত সরকার এই কর আরোপ করেছিল। এই কর প্রত্যাহারের ফলে ভারত প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। এটা একতরফাভাবে মাথা নুইয়ে দেওয়ার শর্ত, যা মোদিজি মেনে নিলেন।

সবচেয়ে বড় কথা হল, কেন এই চুক্তি গত এক বছরের বেশি সময় ধরে আটকে থাকল, আর কী এমন হল যে, কোনও আলোচনা ছাড়াই তা তড়িঘড়ি করে লাগু করে দেওয়া হল? মোদিজীর সাক্ষাৎকারেও এই চুক্তির মূল বয়ান কোথায় পাওয়া যাবে? তা নিয়ে কোনও কথা নেই। আসলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই পারবেন না, সেগুলোকে আড়াল করতেই এক দেশবিরোধী চুক্তিতে সই করলেন আমাদের দেশ বেচে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী। হ্যাঁ, এটাই ইতিহাসে লেখা থাকবে।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

toto DEPOBOS evos gaming

slot gacor

https://www.demeral.com/it/podcast https://rendez-vous.benin-ambassade.fr/profil-d/ https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 WDBOS DEPOBOS idn slot