কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জোর পালা বদল ঘটল। বামনেতা প্রতীক উর রহমানের (Pratik Ur Rahman) প্রতীক বদল করলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত থেকে শনিবার বিকেলে তৃণমূলের ঝান্ডা তুলে নিলেন প্রতীক-উর রহমান। গত লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় সিপিএমের প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীক-উর। শনিবার আমতলায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের কার্যালয়ে সামনে রাস্তায় আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন সিপিএমের প্রাক্তন ‘বিদ্রোহী’ নেতা। সেই সঙ্গে তৃণমূলের যোগ দিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রতীক উর। অন্যদিকে দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে।
গত রবিবার সিপিএমের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন প্রতীক উর। সেই চিঠি সংবাদ মাধ্যমের সামনে চলে আসায় বিতর্ক শুরু হয়। গত চার দিন ধরে নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন দলত্যাগী বাম যুবনেতা প্রতীক উর রহমান। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে একদা বাম যুবনেতার দলবদলে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। এ দিন তৃণমূলে যোগদানের পরে প্রতীক বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এই সময়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, বিজেপিকে আটকানোর জন্যে যে ভাবে গোটা দেশে মানুষের কণ্ঠরোধ হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে সবথেকে বড় শক্তি হল তৃণমূল। সেই কারণেই আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসেছি।’
আরও পড়ুন: প্রতীক উর তৃণমূলে, কী বললেন অভিষেক?
প্রতীক উর রহমান বলেন, আমি সিপিএম-এ ছিলাম তখন বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডার ভীক্ষা নয় অধিকার চাই। পরে দল বলল ভীক্ষা বলা ঠিক হবে না। লোকের মধ্যে রিয়্যাকশন আছে। ভোট আরও কমে যাচ্ছে। আমরা বললাম ভাতা বাড়াতে হবে। পরোক্ষভাবে তৃণমূলের স্কিমের কথাই তো মেনে নিলাম। তিনি আরও বলেন, আমার নীতি বিজেপিকে রুখে দেওয়া। বিজেপিকে আটকাবই। বলছে না ডিল হয়েছে-বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাব। সিপিএম-এ ছিলাম তখন বিজেমূল-বিজেমূল বলে রটিয়েছে। তৃণমূল সেটা ভুল প্রমাণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গেলেন আর প্রতিদিন তৃণমূল সিপিএমকে বলছে, বিজেপির বি টিম। ভোট ট্রান্সফার করেছ এটা প্রমাণ করতে হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিম বসলেন। ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতাদের নিয়ে আলিমুদ্দিনে বসলেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বলল-যাঁরা তোমায় মেরেছিল তাঁদের হয়ে লড়ছ। আমি মার কাদের জন্য খেয়েছিলাম। আমি তো থাকতে চেয়েছিলাম দলে দমবন্ধ পরিস্থির মধ্যে আমি মুখ খুলেছি। অনেকেই মুখ খুলেছে। প্রতীক উর বলেন, “শুভেন্দু দুদিন আগে সেলিমকে আক্রমণ করেছেন। লোকসভা নির্বাচনে কতবার ফোন করেছিলেন কী কতা হয়েছিল…ঠিক আছে আস্তে আস্তে বেরবে।
এর আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনও নেতা তৃণমূলে যোগদান করেননি। কেন পথে দাঁড়িয়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন প্রতীক-উর? অভিষেক বলেন, ‘‘প্রতীক-উরকে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন। ডিল কী? টিকিট পাচ্ছেন। প্রতীক-উর নিজে এসে আমায় বলছেন, দল টিকিট দিলেও নেব না।এর পরেই অভিষেক সিপিএম-কে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘একটা ছেলেকে জানেন না, যে এত দিন দল করল, তাকে চেনেন না। তাকে আগেই ঘোষণা করে দিলেন, সে বেইমান। অভিষেকের কথায়, ‘‘সে আপনার বশ্যতা স্বীকার করেনি। খুব গায়ে জ্বালা সেলিমবাবুদের।







