ওয়েব ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (America) ও ইরানের (Iran) চলমান সংঘাতের মধ্যেই কুয়েতে (Kuwait) একাধিক আমেরিকান যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার দাবি সামনে এল। সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, সকালে কয়েকটি মার্কিন সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে সমস্ত ক্রু সদস্য নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
কুয়েত সেনাবাহিনী ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানায়, দুর্ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিমানের ক্রুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। তবে কতগুলি বিমান ভেঙে পড়েছে, সেগুলির ধরন কী বা দুর্ঘটনার কারণ কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: খামেনেইর মৃত্যুর পিছনে বিশ্বাসঘাতকতা! হত্যার ছক অনেক আগেই কষেছিল মোসাদ!
A US F-15 fighter jet crashes in Kuwait; possibly shot down.
Follow https://t.co/B3zXG73Jym pic.twitter.com/p2ItA2NvWR
— Press TV 🔻 (@PressTV) March 2, 2026
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-র প্রচারিত ফুটেজে একটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ঈগলকে আকাশে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় নীচে নামতে এবং পরে পাইলটদের প্যারাশুটে অবতরণ করতে দেখা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওর স্বতন্ত্র যাচাই এখনও হয়নি। মার্কিন বা কুয়েতি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি।
খবরে জানা গিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র সামরিক তৎপরতার মাঝেই কুয়েতের আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি যুদ্ধ মিশনে ছিল, না প্রশিক্ষণ উড়ানে, তা স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কেও এখনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি।
এদিকে একই সময়ে কুয়েত সিটির মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে দূতাবাস চত্বর সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দূতাবাস থেকে মার্কিন নাগরিকদের ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায়।
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও নেতৃত্বের উপর আঘাত হানার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে। সেই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হন বলে দাবি করা হয়। পাল্টা প্রতিশোধে ইরান একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলির উপর। কুয়েত, বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে খবর।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এই সংঘাতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কাই ঘনিয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে।







