ওয়েব ডেস্ক : ইতিহাস নিয়ে জ্ঞান রয়েছে তাঁর। আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপট বিচার করে যুক্তি সাজান তিনি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই ধরণের ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি। তাঁর নাম হল শুয়েকিং জিয়াং (Xueqin Jiang)। তিনি আমেরিকাকে (America) নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন। যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
তবে সম্প্রতি নয়। বছর দু’য়েক আগে তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণী (Prediction) করেছিলেন। আর বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার-ইরাজায়েলের সংঘর্ষের মাঝে সেই বক্তব্য আবার আলোচনায় এসেছে। শুয়েকিং তিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। সেগুলি হল- প্রথমত, ফের ক্ষমতায় ফিরবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দ্বিতীয়ত, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু করেন ট্রাম্প। তৃতীয়ত, ইরানের সঙ্গে পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ালে হেরে যাবেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যে দু’টি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। তবে তৃতীয়টি নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে কে এই শুয়েকিং জিয়াং? জানা গিয়েছে, ইতিহাস ও দর্শনের গবেষক হিসেবে জিয়াংয়ের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। ইয়েল কলেজে পড়াশোনা করার পর তিনি শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। ইউটিউবে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাস (Predictive History) নামে একটি চ্যানেল রয়েছে তাঁর। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, ভূ-রাজনীতি এবং গেম থিওরির বিশ্লেষণকে একত্র করে তিনি যে পদ্ধতিতে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করেন, তাকে অনেকেই ‘সাইকোহিস্ট্রি’ ধরনের বিশ্লেষণ বলে উল্লেখ করে থাকেন।
আরও খবর : ইরান যুদ্ধেই ফাটল ট্রাম্প শিবিরে! ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শিবিরে স্পষ্ট বিভাজন
সম্প্রতি, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ভূকৌশলগত দিক থেকে ইরান (Iran) এমন অবস্থানে রয়েছে, যা বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে তাদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে তেহরান। এর আগে সীমিত পরিসরের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতাও তাদের কৌশলগত শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার সুযোগ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জিয়াং প্রাচীন ইতিহাসের উদাহরণও টেনেছেন। তাঁর মতে, অতীতে শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলিও ভুল কৌশল বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সেই কারণেই বড় শক্তি হলেও যুদ্ধের ফল সব সময় পূর্বনির্ধারিত হয় না।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ার কৌশলগত সহায়তাও পাচ্ছে ইরান। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে শুয়েকিং জিয়াংয়ের কয়েক বছর আগের মন্তব্য আবারও নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে।
দেখুন অন্য খবর :







