কলকাতা: আজ, শনিবার ছিল এসআইআর (SIR) শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার নির্ধারিত দিন। যদিও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) জানিয়ে দিয়েছেন, কার্যত শুক্রবারই শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে তথ্য আপলোড ও স্ক্রুটিনির কাজ। তবে সব মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে—শেষ পর্যন্ত কত নাম বাদ পড়তে চলেছে?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানিতে নোটিস পাওয়ার পরেও ৬ লক্ষের বেশি ভোটার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) সামনে হাজির হননি। ফলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়াই প্রায় নিশ্চিত।
আরও পড়ুন: বেপরোয়া গতিতে বিপত্তি, ইকোপার্কের কাছে দুর্ঘটনার শিকার গাড়ি
এর পাশাপাশি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের মধ্যেও প্রায় ১০ শতাংশের নাম বাদ যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তাহলে মোট কত?
খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তার সঙ্গে শুনানিতে অনুপস্থিত ৬ লক্ষ যোগ করলে সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৬৪ লক্ষে।
এর সঙ্গে যদি ১০ লক্ষেরও বেশি ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ যুক্ত ভোটারের নাম ধরা হয়, তাহলে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষেরও বেশি নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
কেন বাদ যাচ্ছে নাম?
কমিশনের এক সূত্রের দাবি, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত শুনানিতে অনেকেই কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি বৈধ নথির কোনওটি জমা দিতে পারেননি। তার বদলে প্যান কার্ড বা সংবাদপত্রের কাটিংয়ের মতো নথি জমা দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তাঁদের নাম বাদ পড়তে পারে।
কমিশন জানিয়েছে, নাম বাদ গেলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস দিয়ে কারণ জানানো হবে। এরপর পাঁচ দিনের মধ্যে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সেখানেও সমস্যা মিট না হলে আরও পাঁচ দিনের মধ্যে সিইও দপ্তরে আপিল করা যাবে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের স্ক্রুটিনি। সিইওর চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিললেই প্রকাশ পাবে তালিকা। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—আর কতটা প্রভাব পড়ে রাজ্যের ভোটার তালিকায়।







