কলকাতা: বকেয়া ডিএ-র (DA) দাবিতে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তার আগেই সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল নবান্ন (Nabanna)। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওইদিন রাজ্য সরকারের সব দফতর খোলা থাকবে এবং কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। কোনও কর্মী অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে, অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কাটা যাবে।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ধর্মঘটের দিন সাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। কোনও কর্মী গুরুতর অসুস্থ হলে, হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারের কারও গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে অনুমোদিত ছুটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা হবে।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকট ঠেকাতে প্রকাশ্যে রাজ্যের ১০ দফা নির্দেশিকা
যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে প্রাপ্য ছুটি বাতিল করা হতে পারে এবং বেতনও কাটা যেতে পারে। এমনকি নোটিসের জবাব না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবারের উপস্থিতির হিসাব আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টের আইন মেনে চলে। কিন্তু বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ, এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”
প্রসঙ্গত, বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। পরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দু’দফায় মিটিয়ে দিতে হবে মে মাসের মধ্যে। প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। তবে রাজ্য সরকারের দাবি, প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজার কর্মীর নথি যাচাই করতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগের অনেক তথ্য ডিজিটাল নয়, হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে রয়েছে। সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে। এই প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে রাজ্য। এদিকে এখনও বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা। সেই কারণেই শুক্রবার রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।







