কলকাতা: উত্তর কলকাতার (North Kolkata) আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) লিফট বিপর্যয়ের রেশ কাটছে না। পর পর দু’দিন লিফট বিকল হয়ে ভিতরে আটকে পড়লেন কর্মী-সহ একাধিক মানুষ। যদিও দু’টি ঘটনাতেই শেষ পর্যন্ত সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে আতঙ্ক কাটছে না হাসপাতাল চত্বরে।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালের অ্যাকাডেমি বিল্ডিংয়ের একটি লিফট আচমকাই বিকল হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট তলায় পৌঁছলেও দরজা খুলছিল না বলে অভিযোগ। সেই সময় লিফটম্যান-সহ কয়েক জন ভিতরে আটকে পড়েন। কিছুক্ষণের চেষ্টার পর তাঁদের বাইরে বার করা হয়। এর আগের দিন, মঙ্গলবার অন্য একটি ভবনে লিফ্ট দু’টি তলার মাঝে আটকে পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: এবিভিপি বনাম বাম! যাদবপুরে রামনবমী পুজো ঘিরে টানাপোড়েন
এই ধারাবাহিক ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও ভয়াবহ এক স্মৃতি। গত শনিবার ভোরে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে লিফট বিপর্যয়ে মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিযোগ, লিফটের দরজায় আটকে গিয়ে থেঁতলে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই তিন লিফ্টম্যান-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, জুনিয়র ডাক্তার ও ছাত্র প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। সেখানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য, হাসপাতালের ৩২টি লিফ্টের মধ্যে বর্তমানে ১২টিই অচল।
লিফ্ট রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। পূর্ত দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, নির্মাতা সংস্থাই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে। তবে রাতে কোনও টেকনিশিয়ান না থাকায় সমস্যা বাড়ছে বলেই মত অনেকের। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, লিফ্ট সংক্রান্ত সমস্যা দেখভালের জন্য ২৪ ঘণ্টা কর্মী মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালেই এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। সেই নির্যাতিতার মা-কে সম্প্রতি পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি, এই ঘটনাও নতুন করে চর্চায় এসেছে।







