কলকাতা: সংসদ ভবনের গণ্ডি পেরিয়ে এবার কর্তব্যপথের প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day 2026) কুচকাওয়াজেও নাম উচ্চারণে বিভ্রাটের শিকার হলেন বাংলার বীরকন্যা মাতঙ্গিনী হাজরা (Matangini Hazra)। সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলার ট্যাবলো বর্ণনার সময় মহিলা ঘোষকের মুখে শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার নাম উচ্চারিত হল ‘মান্তাগিনী হাজরা’ হিসেবে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতিতেই এই ভুল উচ্চারণ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কুচকাওয়াজ চলাকালীন ঘোষণায় এই নাম বিভ্রাট নজরে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় শোরগোল। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রথম শহিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক মাতঙ্গিনী হাজরার নাম এভাবে বিকৃত হওয়াকে অনেকেই অসম্মানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের দাবি, এটি কেবল একটি ভাষাগত ভুল নয়, বরং বাংলার ইতিহাস ও আবেগের প্রতি অবহেলার প্রকাশ।
.@BJP4India shouts “Poriborton.” But what they actually mean is PROHIBITION, on our identity, our dignity, and our rights.
🚫 Ban our culture
🚫 Ban our food
🚫 Ban our language
🚫 Ban our voting rights
🚫 Ban our faith
🚫 Ban our loveTheir contempt for Bengal was on full… pic.twitter.com/xzjAKxCQVk
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 26, 2026
উল্লেখ্য, এটাই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণে বিভ্রাট নিয়ে কেন্দ্রীয় শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বঙ্কিমদা’, মাস্টারদা সূর্য সেন ‘মাস্টার’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’—এই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন মাতঙ্গিনী হাজরা। সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশনে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা মাতঙ্গিনী হাজরাকে মুসলমান বলে উল্লেখ করায়ও তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল।
এবছর প্রজাতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলো সাজানো হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানকে কেন্দ্র করে। সামনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ রচনায় ব্যস্ত, পেছনে ঘোড়ার পিঠে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জাতীয় পতাকা হাতে মাতঙ্গিনী হাজরা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ফাঁসির মঞ্চে ক্ষুদিরামের প্রতিরূপ—এই ট্যাবলো বর্ণনার সময়ই ঘটে এই বিতর্কিত ভুল।
ঘটনার পর সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অফিসিয়াল সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “এটা শুধু ভুল নয়, বাঙালির আবেগে সরাসরি আঘাত।” তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলার মনীষীদের বারবার অসম্মান করে বিজেপি আসলে বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাবই প্রকাশ করছে।







