ওয়েবডেস্ক- অভাবের তাড়না? মায়ের বিরুদ্ধে নিজের ৪৫ দিনের সন্তানকে বেচে দেওয়ার অভিযোগ। হতবাক কলকাতার হাইকোর্ট (Kolkata High Court) । কোথায় পিতা-মাতার স্নেহ ভালোবাসা? মন্তব্য হাইকোর্টের। মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
মে মাসের মধ্যে সাঁকরাইল থানার (Sankrail Police Station) পুলিশকে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা করতে হবে কলকাতা হাইকোর্টে নির্দেশ বিচারপতি দেবাংশু বসাক (Justice Debangshu Basak) ও বিচারপতি মোহাম্মদ সাব্বাক রশিদির (Justice Mohammad Sabbak Rashidi) । ২০ মার্চ ২০২৫ হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার বাসিন্দা রানী বেগম (পরিবর্তিত নাম ) সন্তানের জন্ম দেয়। তিনি একজন গৃহবধূ তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করে। ৬ মে ২০২৫ হাওড়া সাঁকরাইল থানার পুলিশ খবর পায় ৪৫ দিনের এক বাচ্চাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ৪৫ দিনে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন- ‘পাকিস্তানে ঢুকে মারব’, পাক বিদেশমন্ত্রীকে হুমকি অভিষেকের
পুলিশ সেই সময় একটি ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তিপত্র উদ্ধার করে। চুক্তিপত্রে লেখা ছিল রানী বেগম (পরিবর্তিত নাম) লালটু মল্লিককে তার দেড় মাসের সন্তানকে হস্তান্তর করছে। ভবিষ্যতে তার সন্তানের প্রতি তার কোনও অধিকার থাকবে না। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে লিলুয়া হোমে পাঠিয়ে দেয়। এরপরে দীর্ঘদিন পর চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। খবর পেয়ে মা রানী বেগম কলকাতা হাইকোর্টে সন্তানের হেফাজত চেয়ে মামলা দায়ের করে।
বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি বাচ্চাটিকে কোথাও হস্তান্তর করতে পারবে না। পরবর্তীকালে মামলা আসে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সাব্বাক রশিদের ডিভিশন বেঞ্চে।
বিচারপতি দেবাংশু বসাকের তীব্র ভর্ৎসনা, একজন মা তার সন্তানকে বেচে দিচ্ছে! কি অবস্থা সমাজের। আবার যদি তাকে হস্তান্তর করা হয় সে আবার হয়ত বেচে দেবে। মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে দুটি তদন্ত হওয়া উচিত।
আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা সঠিক সে সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করব না। তবে আদালত যে কোন শর্তে এবং নজরদারিতে মায়ের হেফাজতে সন্তানকে দিতে পারে। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের নির্দেশ, আগে মায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক তদন্ত হোক তারপরে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আদালতের নির্দেশ সাঁকরাইল থানার পুলিশকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে মায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে এবং সেই তদন্ত রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা করতে হবে। আইনজীবী মহলের মতে সামাজিক অর্থনৈতিক সঙ্কটে মা ও সন্তানের স্নেহের সম্পর্ক আজ অবলুপ্তির পথে।







