Sunday, May 17, 2026
HomeScrollFourth Pillar | ফেঁসেছেন ট্রাম্প, ফেঁসেছেন মোদিজি
Fourth Pillar

Fourth Pillar | ফেঁসেছেন ট্রাম্প, ফেঁসেছেন মোদিজি

আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মোদিজি

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

২০২৬ সালের ৩১শে মার্চ। আজ থেকে ঠিক ৩১ দিন আগে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি যখন আমেরিকা ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের ঝাঁপিয়ে পড়ল, যখন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে মাছি মারার মতো অবজ্ঞায় ঘোষণা করেছিলেন যে, এই যুদ্ধ চলবে পাঁচ দিন। খুব সোজা তাঁর হিসেব, আধুনিক প্রযুক্তির বোমাবর্ষণ আর ড্রোন হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো পাঁচ দিনের মধ্যে গুঁড়িয়ে যাবে, আর তেহরান হাঁটু গেড়ে বসে ওয়াশিংটনের শর্তে শান্তি চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য হবে, আর সেই চুক্তি সই করবে আমেরিকারর বসানো এক কাঠপুতুল। কিন্তু ৩১ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের সেই পাঁচ দিনে যুদ্ধ শেষ করার বাওয়াল কেবল ব্যর্থই হয়নি, বরং আমেরিকা আজ এক অন্তহীন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে গিয়েছে। ইরান তার ড্রোন আর মিসাইল দিয়ে পারস্য উপসাগরের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে এমনভাবে তছনছ করেছে যে, বিশ্ব অর্থনীতি আজ ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে, অন্যদিকে আমাদের ভারতে নরেন্দ্র মোদির ‘বিশ্বগুরু’ ইমেজ টুকরো টুকরো হয়ে ছিটকে গিয়েছে। আর এই যুদ্ধের ফলে আমাদের মোটামুটি চলতে থাকা এক ইকনমি আবার এক গভীর অভ্যন্তরীণ, আন্তর্জাতিক সংকটের গর্তে পড়েছে। ট্রাম্প যেমন নিজের গড়া যুদ্ধের ফাঁদে ফেঁসেছেন, মোদিজিও ঠিক তেমনই আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা আর অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ট্রাম্পের ব্যর্থ আস্ফালন, পাঁচ দিনের যুদ্ধের চোরাবালি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সূচনা হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিককে খুন করার মধ্য দিয়ে, যা ইরানকে কিছুদিনের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, এই বিশাল ধাক্কার পর ইরান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু যুদ্ধের ৩১তম দিনে এসে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা এক্কেবারে উল্টো। ইরান কেবল টিকেই নেই, তারা মার্কিন সামরিক শক্তির আধুনিক প্রতীকগুলোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ৩১শে মার্চের অসমর্থিত রিপোর্ট বলছে, সৌদি আরবের একটা ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটা মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষতি স্বীকার না করলেও, পেন্টাগনের ভেতরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর এটা যদি সত্যি হয়, তবে তা হবে বর্তমান শতাব্দীতে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক আঘাত। ট্রাম্পের পাঁচ দিনের যুদ্ধের পরিকল্পনা আজ ৩১ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে হয়ে উঠেছে, যেখানে লেবাননের হিজবুল্লা থেকে শুরু করে ইয়েমেনের হুথিরাও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প এখন ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল খনি এবং বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা ছিল—হয় ইরান আলোচনা করবে, না হয় তাদের জ্বালানি পরিকাঠামো ‘কমপ্লিটলি অবলিটারেট’ বা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। কিন্তু ইরান এই হুমকিতে মাথা নোয়ায়নি। উল্টে তারা কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ কেবল ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা ট্রাম্পের নিজের দেশেই প্রবল মুদ্রাস্ফীতির জন্ম দিচ্ছে। আমেরিকার অভ্যন্তরে ট্রাম্প এখন বড় ধরনের বিরোধিতার সামনে দাঁড়িয়ে। তাঁর নিজের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা সমর্থক গোষ্ঠীও এখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যে ট্রাম্প একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি আমেরিকাকে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ থেকে সরিয়ে আনবেন, তিনিই এখন এক দীর্ঘস্থায়ী ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। আসলে ট্রাম্প এখন একটা সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। তিনি দাবি করছেন যে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফের সাথে তাঁর খুব ভালো আলোচনা চলছে, আর ইরান নাকি যুদ্ধের সমাপ্তি চাইছে। কিন্তু তেহরান থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা আমেরিকার দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, যতক্ষণ না আমেরিকা সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, আগ্রাসন বন্ধ করছে, ততক্ষণ কোনও আলোচনা হবে না। ট্রাম্প আজ তাঁর নিজের জালে এমনভাবে আটকে গিয়েছেন যে, না পারছেন যুদ্ধ জিততে, না পারছেন হার স্বীকার করে বেরিয়ে আসতে।

আবার পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধেরই আগুন ভারতের মুম্বই শেয়ার বাজারে এমনভাবে আছড়ে পড়েছে যে, লগ্নিকারীরা সর্বশ্রান্ত। ৩১শে মার্চ, ২০২৬-এর শেষে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক সেন্সেক্স, যা একসময় ৮৫ হাজারে পৌঁছেছিল, তা কদিনের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে নেমে এসেছে ৭১,৯৪৭.৫৫ পয়েন্টে। এক মাস ধরে চলা এই পতনে বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা উবে গিয়েছে। এই ধসের মূল কারণ হল, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি আর তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় আমাদের মতো দেশ, যারা নাকি প্রয়োজনের ৮৮ শতাংশ তেল আমদানি করে, এক চরম সংকটের মুখোমুখি। আর ওই শেয়ার বাজারের ধস মাথায় রাখুন, সেটা কিন্তু কেবল সংখ্যার খেলা নয়, ভারতীয় অর্থনীতির উপর মানুষের আস্থার পতন। ব্যাঙ্কিং, অটোমোবাইল, আইটি সেক্টরের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি নেমেছে। বিশেষ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যখন টাকার দাম ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে কড়াকড়ি করছে, তখন ব্যাঙ্কিং সেক্টরে আরও বিক্রি শুরু হল। তারা এখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন, সোনা ডলারে বিনিয়োগ করছেন, ফলে শেয়ার বাজারের রক্তক্ষরণ থামছে না। ডলারের উল্টোদিকে টাকা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৯৫.২১-এ। ফলে ভারতের আমদানি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যে ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম, ওষুধ বা শিল্পের কাঁচামাল ভারত বিদেশ থেকে আসে, তার দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। টাকার এই পতন ভারতের আর্থিক ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, আর সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা গত ১০ বছরে দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আর রান্নার গ্যাসের হাহাকার। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে দিনে মাত্র ছ’টাতে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১৩৫টা জাহাজ যাতায়াত করত, এর ফলে ভারতে এলপিজি সরবরাহ বিরাট মাপে কমছে। বড় শহরে গ্যাসের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনই সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়াও যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | পশ্চিমবঙ্গে ভোট কি আদৌ হবে?

সরকার দাবি করছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পেট্রল-ডিজেলের মজুত আছে, প্যানিক করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা। পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন আর অনেক জায়গায় ‘নো স্টক’ বোর্ড ঝোলানো, এসব তো মানুষ দেখছে। আর মোদিজির সমস্যা হল এই সংকটের মধ্যেই সামনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরির মতো গুরুত্বপূর্ণ চারটে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় তেলের দাম বাড়ানো রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হতে পারে। তাই মোদিজি এক কায়দা করলেন, পেট্রলের উপর আবগারি শুল্ক কমিয়ে লিটার প্রতি ৩ টাকা আর ডিজেলের উপর শুল্ক শূন্য করে দিয়েছে। আসলে এটা নির্বাচনের আগে সামাল দেবার চেষ্টা। ‘প্রাক-নির্বাচনী মলম’ বা নির্বাচনী গিমিক। কিন্তু এই কায়দার পরেও ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলো এই মুহূর্তে পেট্রলে লিটার প্রতি ২৬ টাকা, ডিজেলে লিটার প্রতি ৮১.৯০ টাকা লোকসান দিচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এই সংস্থাগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা, মানে নির্বাচনের পর যখন তেলের দাম এক ধাক্কায় বাড়বে, তখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। অথচ গত এক মাস ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার এই ভয়াবহ যুদ্ধে ভারতকে সক্রিয় কোনও ভূমিকাতে দেখাই যায়নি।

কবে দেখেছিলাম আমরা মোদিজিকে? ঠিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি ইজরায়েল গিয়েছিলেন, তার পর ‘ফাদারল্যান্ড’, ‘মাদারল্যান্ড’ ইত্যাদি বলে ফিরে আসার পরেই শুরু হয় যুদ্ধ। অথচ ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এই সংকটে হঠাৎ করেই বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলছেন, মধ্যস্থতার কাজ চালাচ্ছেন। ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক মিশরের বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে একটা সফল শীর্ষ সম্মেলনও হয়েছে। আমরা আপাতত নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা আর ১০ মিলিয়ন প্রবাসী ভারতীয়র সুরক্ষা নিয়ে বিবৃতি দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখন পাকিস্তান নিজেদের আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী সেতু হিসেবে তুলে ধরেছে। ট্রাম্প প্রশাসনও পাকিস্তানের সাথে আমেরিকার সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার কথা বলছে। মোদি সরকারের মাত্রাছাড়া আমেরিকা-ঘেঁষা নীতি আর ইজরায়েলের উপরে প্রকাশ্য সমর্থন দেখে আরব দেশগুলো ভারতকে সন্দেহের চোখে দেখছে, ফলে সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলো এখন সরাসরি মোদিজির বদলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বেশি আগ্রহী। এটা অবশ্যই ভারতের জন্য এক চরম কূটনৈতিক পরাজয়।

এখানেই সমস্যা শেষ হচ্ছে না, ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে। কিন্তু সমস্যা হল, ইরান এখন ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য দেশ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত ১০ দিনে দু’বার মোদিজিকে ফোন করে ব্রিকসের সভাপতিত্বের ক্ষমতা ব্যবহার করে আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে এক জোরালো নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানিয়েছেন। ইরান মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্রিকস তৈরিই হয়েছিল পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক বিকল্প জোট হিসেবে, আর সদস্য রাষ্ট্র আক্রমণের মুখে পড়লে জোটের চুপ করে থাকাটা শোভা দেয় না, কাজেই মোদিজি এক উভয় সংকটে পড়েছেন। ব্রিকসের অন্য দুই প্রভাবশালী সদস্য রাশিয়া ও চীন ইতিমধ্যেই ইরানের উপর হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে, ভারত যদি রাশিয়ার সুরে সুর মিলিয়ে নিন্দা প্রস্তাব আনে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প খচে যাবেন, ভারতের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে পারেন। আবার ভারত যদি ইরানের পক্ষে না দাঁড়ায়, তবে ব্রিকস জোটে ভারতের নেতৃত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে এসে ঠেকবে। ইতিমধ্যেই ভারত রাষ্ট্রসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবকে সমর্থন করে ইরানকে চটিয়েছে। মোদিজির কাছে এখন ‘বিশ্বগুরু’ যাক ভোগে, আপাতত কীভাবে ব্রিকস সম্মেলনকে একটা সম্মানজনক জায়গায় ধরে রাখা যায় ইরানের চাপ সামলানো যায়, সেটাই প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদি দুজনেই আজ এক জটিল বিশ্ব রাজনীতির জালে আটকে পড়েছেন, যা তাঁদের নিজেদের ভুলের ফসল। ট্রাম্পের পাঁচ দিনের যুদ্ধের অহংকার আজ আমেরিকা ইজরায়েলকে এক অন্তহীন রক্তক্ষরণের পথে নিয়ে গিয়েছে। তিনি আজ একটা ‘গ্লোরিয়াস রিট্রিট’-এর জন্য ছটফট করছেন, পালানোর পথ খুঁজছেন, কিন্তু ইরান তাঁকে সেই সহজ রাস্তা দিচ্ছে না। অন্যদিকে মোদিজি নিজের দেশে ধসে পড়া অর্থনীতি, আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকটের তলায় চাপা পড়েছেন। ‘বিশ্বগুরু’ সাজতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি আজ পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশের থেকেও পিছিয়ে। সামনে ভোট, তেলের দাম বাড়াতে পারছেন না, ওদিকে জমা হচ্ছে, বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ, টাকার দাম পড়ছে, আর ব্রিকসের মঞ্চে ইরানের চাপ—সব মিলিয়ে ‘মোদি ম্যাজিক’ আজ ফিকে হয়ে আসছে। মোদিজি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে এক ভুল পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিকে আরও কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। ফেঁসেছেন ট্রাম্প, ফেঁসেছেন মোদিজি—পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই ফাঁদ থেকে বেরোনোর কোনো সহজ পথ দুজনের কারও কাছেই নেই।

দেখুন আরও খবর: 

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto istanaslot istanaslot sohibslot