কলকাতা: আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Case) নিহত চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অবশেষে গ্রেফতার হলেন পানিহাটির (Panihati) প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। বৃহস্পতিবার ওড়িশার (Odisha) বালেশ্বর জেলার একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। প্রায় দু’বছর আগে ঘটে যাওয়া আরজি কর-কাণ্ডের পর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই বাড়িতে ছিলেন না নির্মল। পরিবারের সদস্যদেরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশের নজর এড়াতে পুরনো মোবাইল ফোন বন্ধ করে নতুন ফোন ও সিমকার্ড ব্যবহার করছিলেন তিনি। সেই নতুন ফোন থেকেই ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ।
আরও খবর : নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ কাড়ল সরকার
তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে তাঁর গতিবিধির হদিস পান। জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বর জেলার সিমুলিয়া থানা এলাকার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন নির্মল। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল সিমুলিয়া পুলিশের সাহায্য নিয়ে সেখানে অভিযান চালায়। হোটেল থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে সিমুলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে আরজি কর-কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের পরিবারের নতুন অভিযোগ। অভিযোগ, পানিহাটি শ্মশানে তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। নিহত চিকিৎসকের বাবা আগেও নির্মলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে আগের একটি মামলা শিয়ালদহ আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছিল বলে পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে ওই সৎকার-পর্ব নিয়ে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেন। তার পরেই খড়দহ থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয় এবং এফআইআর করে পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নির্মলকে ওড়িশার আদালতে পেশ করার পর ট্রানজ়িট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হতে পারে। শুক্রবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর সম্ভাবনা রয়েছে।







