ওয়েব ডেস্ক : বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভা পেশ হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেট (Interim budget)। আর সেই বাজেট ও বেকার ভাতা সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলিকে ‘নির্বাচনী প্রতারণা’ বলে কটাক্ষ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিজেপি (BJP) প্রধান কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের বছরে পেশ হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেটে নতুন প্রকল্প বা ভাতা বৃদ্ধি কার্যকর করার কোনও বাস্তবিক কিংবা আইনি ভিত্তি নেই।
শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে যায়। ফলে এপ্রিল থেকে ভাতা বৃদ্ধির যে ঘোষণা করা হয়েছে, নির্বাচন বিধি কার্যকর থাকলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তাঁর বক্তব্য, এই ঘোষণাগুলি শুধুমাত্র ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, আইসিডিএস, আশা কর্মী, প্যারা টিচার, সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশের ক্ষেত্রে ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হলেও বহু চুক্তিভিত্তিক কর্মী—ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, সর্বশিক্ষা কর্মী, ভিলেজ রিসোর্স পার্সন, পরিবহণ দপ্তরের চালক ও কন্ডাক্টরদের—এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই নীতি স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।
আরও খবর : সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে’,অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় তুলকালাম
বেকারত্ব প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, ২০১১ সালে রাজ্যে ৫১টি কর্মবিনিয়োগ কেন্দ্র ছিল এবং সেখানে প্রায় এক কোটি বেকার যুবক নথিভুক্ত ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে এই কেন্দ্রগুলি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বেকারত্বের প্রকৃত পরিসংখ্যান আড়াল করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। ‘যুব উৎসাহ’ প্রকল্প পরে ‘যুবশ্রী’তে রূপান্তরিত হলেও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় বহু আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নতুন করে ঘোষিত বেকার ভাতা প্রকল্পকে পুরনো প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বেকার যুবকদের আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের বদলে ভাতাভিত্তিক নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে একাধিক ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, অন্তর্বর্তী বাজেটের মেয়াদ জুলাই মাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সেই অবস্থায় আগস্ট থেকে নতুন প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বেকার যুবকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার পরিবর্তে সাময়িক আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি সমস্যার সমাধান নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
দেখুন অন্য খবর :







