ওয়েব ডেস্ক : পেট্রল (Petrol) পাম্পে গিয়ে E10 ও E20-এর মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ এখন কার্যত নেই। দেশজুড়ে E20 পেট্রল ব্যবহারের মধ্যেই পুরনো গাড়ি ও বাইকের কথা মাথায় রেখে ফের E10 চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন কেন্দ্রের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন (V Anantha Nageswaran)। অর্থ মন্ত্রকের পরামর্শদাতা আকাশ পূজারিকে সঙ্গে নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধে তাঁরা জানিয়েছেন, পুরনো যানবাহনের জন্য কম ইথানলযুক্ত পেট্রল রাখার বিষয়টি নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
E20 নিয়ে মাইলেজ কমে যাওয়ার নানা দাবি থাকলেও নাগেশ্বরনের বক্তব্য, ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো পেট্রলে জ্বালানির শক্তি কমার পরিমাণ আনুমানিক ৬ থেকে ৭ শতাংশ। তবে সমস্যার জায়গাটি অন্যত্র। BS4-এর আগের সময়ের তৈরি বহু দু’চাকার গাড়ি E10 ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি হয়েছিল। কার্বোরেটর-নির্ভর ইঞ্জিন এবং পুরনো রাবারের সিলের মতো যন্ত্রাংশে বেশি ইথানল ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশে এমন পুরনো দু’চাকার গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৭.৫ থেকে ৮ কোটি বলে উল্লেখ করেছেন নাগেশ্বরন (V Anantha Nageswaran)। এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে একসঙ্গে বদলে ফেলা বা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা সহজ নয়। তাই তাঁর মতে, নতুন গাড়িতে E20 ব্যবহারের পাশাপাশি পুরনো যানবাহনের জন্য E10-ও পাম্পে রাখা যেতে পারে। এতে পুরনো গাড়ির মালিকদের উদ্বেগ কমবে এবং ধীরে ধীরে রেট্রোফিট বা যানবাহন বদলের সুযোগও পাওয়া যাবে।
আরও খবর : মঙ্গলবারই ডিএ মামলার চূড়ান্ত রায়? এর মাঝেই অবসর নিচ্ছেন এক বিচারপতি
তবে বিতর্ক শুধু গাড়ির ইঞ্জিনেই সীমাবদ্ধ নয়। ইথানল তৈরিতে চাল, ভুট্টা ও আখের মতো কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ায় খাদ্য বনাম জ্বালানির প্রশ্নও সামনে এসেছে। চলতি ইথানল সরবরাহ বর্ষে জুন পর্যন্ত ইথানল তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার প্রায় ৬৮ লক্ষ টনে পৌঁছেছে, যা চালের ব্যবহারের চেয়েও বেশি। একই সময়ে চালের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৫৪ লক্ষ টন। ফলে ভবিষ্যতে E27 বা E30-এর মতো আরও বেশি ইথানল মিশ্রণের আগে জমি, জল এবং খাদ্যশস্যের জোগানের উপর কী প্রভাব পড়বে, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন নাগেশ্বরন ও পূজারি।
এদিকে কেন্দ্রের অবস্থান আপাতত E20 নিয়েই। সরকারের দাবি, নির্ধারিত মান মেনেই E20 সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ইথানল মিশ্রণের ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমছে। ইথানল শিল্পের প্রতিনিধিরাও E20 থেকে পিছিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই নীতি কার্যকর হয়েছে।







