হলদিয়া: বঙ্গে জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার করতে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আজ হলদিয়ার সভা প্রধানমন্ত্রী (Modi Election Campaigning in Haldia) কড়া ভাষায় বিঁধলেন তৃণমূলকে!সভার শুরুতে নির্মম সরকারকে বিদায় দেওয়ার স্লোগান দিয়ে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী। সপ্তম পে কমিশন চালুর ঘোষণা মোদির। আরও একবার তৃণমূলকে নির্মম সরকার বলে আক্রমণ মোদির। তিনি বলে দেন, পাঁচ বছর আগে পরিবর্তনের ডাক দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল নন্দীগ্রাম থেকে। এবার ভবানীপুরেও সেই ছবিটাই দেখা যাবে।সেই সঙ্গে হলদিয়া থেকে ছয় গ্যারান্টির ঘোষণা মোদির। বললেন, “যার যা অধিকার, সেটাই দেবে বিজেপি। এটাই মোদির গ্যারান্টি।” বিজেপি সরকার সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
হলদিয়ায় সভা মঞ্চে এসেই মোদির কণ্ঠে “পাল্টানো দরকার তাই বিজেপি সরকার”(BJP Govt)।সভার শুরুতেই বাংলায় বলেন নমস্কার, কেমন আছেন পূর্ব মেদিনীপুর।বৃষ্টির জন্যে বিলম্বের কথা বলেই প্রসঙ্গ তোলেন নন্দীগ্রামের। মোদি বলেন, আগের বার নন্দীগ্রামে যা হয়েছিল এবার ভবানীপুরে তাই হবে।তিনি বলেন নির্মম সরকারের বিদায় চাই।তৃণমূলের নির্মম শাসনে নকল ডকুমেন্ট,পশু পাচার,অনুপ্রবেশ ঘটেছে।তৃণমূল ভয়ের রাজনীতি করে,ভয় নয় ভরসায় চলতে হয়।তৃণমূল সরকার যুবকদের সাথে যা করেছে ১০০ বছর ও ক্ষমার অযোগ্য হয়ে থাকবে। তৃণমূলকে আরও খোঁচা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল ভোট ব্যাংককে খুশি করার জন্যে কোর্ট, সংবিধান কাউকেই পরোয়া করেনা।সেই জায়গায় বিজেপি সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে।বিজেপি সরকার গঠন হলে রোজগার শুরু হবে,তৃণমূলের চিটিংবাজি বন্ধ হবে।
আরও পড়ুন:‘পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে যা হয়েছিল, এবার ভবানীপুরে হবে’, হুঙ্কার মোদির
হলদিয়া থেকে ছয় গ্যারান্টির ঘোষণা করেন মোদি। তিনি বলেন, ১. ভয়ের জায়গায় ভরসা আরোপ করবে মোদি সরকার। ২. সমস্ত কাজের জন্য সরকারি সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ৩. দুর্নীতি তথা মেয়েদের সঙ্গে হওয়া অপরাধের সব ফাইল খুলবে। ৩. দুর্নীতিগ্রস্তরা জেলে যাবে। মন্ত্রী হোক বা নেতা, কাউকে রেয়াত করা হবে না। আইন-ই বিচার করবে। ৪. কাউকে টাকা খেতে দেওয়া হবে না। ৫. অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে থাকতে পারবে না। ৬. সরকারি কর্মচারী, শিক্ষকদের জন্য সপ্তম পে কমিশন লাগু করা হবে। মোদি আরও বলেন, যে প্রকল্পে ‘পিএম’ নাম থাকে তা বদলে দেয় তৃণমূল। এভাবে সাধারণ মানুষকে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে তারা। কোনও প্রকল্পই বাংলায় লাগু হতে দেয় না। আসলে পিএম শব্দকেই ঘৃণা করে তৃণমূল। এটা আসলে সংবিধানকে অপমান, মানুষকে অপমান।সেই সঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে নমো বলেন, একসময়ে বাংলা অন্যকে দিশা দেখাতো। এখন রাজ্যে শুধু ভয়ের পরিবেশ। কাজ নেই, কারখানা নেই। সব জায়গায় অনুপ্রবেশকারীদের কারখানা খুলে রেখেছে তৃণমূল সরকার। এখানে শুধু সিন্ডিকেটের ভয়। কিন্তু রাজ্য ভয় নয়, ভরসায় চলে। সেটা একমাত্র বিজেপিই দিতে পারে।
যে সব রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে সেখানে রোজগার মেলা হয়। আর বাংলায় শুধুই দুর্নীতি। মে মাসে আপনারা বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছেন। আমরা এলেই রোজগার মেলা শুরু হবে বাংলায়। রাজ্যের যুবরা চাকরি পাবে। মৎস্য চাষ নিয়ে বার্তা প্রধামন্ত্রীর। নরেন্দ্র মোদি বলেন বাংলায় সম্ভাবনা থাকলেও অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়।গত ১১ বছরে মাছ আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে।বিহার মাছ চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে।বড় ভূমিকা নিয়েছে পি এম মৎস্য প্রকল্প।পিএম। নাম তৃণমূল নিতে পারেন।তাই নাম বদলে দিয়েছে।ডাবল ইঞ্জিন সরকার আনতে হবে।স্বাধীনতার এত বছর পরেও মৎস্যজীবীদের পরিবার গরিব হয়ে রয়ে গিয়েছে। নারী সুরক্ষা নিয়ে কড়া মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর।নরেন্দ্র মোদি বলেন, তৃণমূলের আমলে ১৫ বছরের নিচের মেয়েরা সুরক্ষিত না।রাস্তার মেয়েদের সুরক্ষা নেই।বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।পাশাপাশি ৬ টি গ্যারান্টির দাবি মোদির!হলদিয়ার সভা থেকে সপ্তম পে কমিশন লাগুর ঘোষণা প্রধামন্ত্রীর।







