ওয়েব ডেস্ক : গত এক দশকে দেশের বিচারপতিদের (Judges) বিরুদ্ধে মোট ৮,৬৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সংসদে (Parliament) এমনই তথ্য জানাল কেন্দ্র (Central Government)। শুক্রবার লোকসভায় লিখিতভাবে এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) জানান, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের উচ্চ আদালতগুলির বিচারপতিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তামিলনাড়ুর ডিএমকে সাংসদ ভিএস মথেশ্বরন (V.S. Matheswaran) জানতে চেয়েছিলেন, হাই কোর্ট (High Court) ও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, যৌন অসদাচরণ বা অন্যান্য গুরুতর অনিয়ম সংক্রান্ত কতগুলি অভিযোগ পেয়েছে সরকার। এই বিষয়ে আইন মন্ত্রকের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮,৬৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এই পরিসংখ্যান শীর্ষ আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অভিযোগের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৫০ শতাংশের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে। তবে এই অভিযোগের বিরদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও ধরণের স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি আইন মন্ত্রকের তরফে। অন্যদিকে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগের নিষ্পত্তি ও তার অগ্রগতি সম্পর্কিত কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) তরফে।
অন্য এক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল, যে অভিযোগ গুলি উঠেছে, তার রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে কোনও ডাটাবেশ রয়েছে কি না। উত্তরে জানানো হয়েছে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিচারব্যবস্থার নিজস্ব ‘ইন-হাউস মেকানিজম’-এর মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়। সঙ্গে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখেন প্রধান বিচারপতি ও হাই কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিরাই ব্যবস্থা নেন।
মূলত, এই ‘ইন-হাউস প্রক্রিয়া’ ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালু হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য, বিচারপতিদের আচরণ নীতিমালা ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা। এছাড়া প্রয়োজন হলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে নাগরিকরা সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তবে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য কেন্দ্র কোনও নতুন নির্দেশিকা জারি করবে? কিন্তু এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের (Ministry of Law and Justice) তরফে।
দেখুন অন্য খবর :







