Sunday, February 1, 2026
HomeScrollআনন্দপুর দুর্ঘটনায় 'দুর্নীতি তত্ত্ব' দিলেন শাহ
Amit Shah

আনন্দপুর দুর্ঘটনায় ‘দুর্নীতি তত্ত্ব’ দিলেন শাহ

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

কলকাতা: আনন্দপুরের (Anandapur) নাজিরাবাদের (Najirabad) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার ব্যারাকপুরের  আনন্দপুরীতে বিজেপির (BJP) কর্মী সম্মেলন থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান শাহ, এরপরই রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণে নামেন।

অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষের মৃত্যু, বহু নিখোঁজের অভিযোগ থাকার পরেও কেন এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের মদতেই অভিযুক্তদের আড়াল করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ছবির উল্লেখ করেন, যেখানে বিদেশ সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে ওই সংস্থার মালিককে। শাহের প্রশ্ন, “উনি কার সঙ্গে বিদেশে যান? সেই কারণেই কি রাজ্য সরকার চুপ করে আছে?”

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রে শুনানি নিয়ে বিতর্ক! প্রতিবাদ তৃণমূলের

এখানেই থামেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “যদি মৃতেরা অনুপ্রবেশকারী হতেন, তাহলে কি প্রশাসনের ভূমিকা এমনই হতো?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন শাহ। পাশাপাশি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। মৃতদের পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে শাহ বলেন, “ছাব্বিশে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক দোষীকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতেও প্রতিদিনের মতো আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই কারখানা ও গুদামে কর্মীদের আনাগোনা ছিল। হঠাৎই ভয়াবহ আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ছাই হয়ে যায়। বর্তমানে গোটা এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পোড়া গন্ধের মধ্যেই এখনও নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে শীঘ্রই ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণের পরই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’-র তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সংস্থার পক্ষ থেকে দায় চাপানো হয়েছে পাশের একটি গুদামের উপর। যদিও নিহত তিন কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথাও দাবি করেছে ওই সংস্থা।

Read More

Latest News