নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ঘোষণা করা হল। নতুন আয়কর আইন (New Income Tax Act) ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এই আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় নতুন আয়কর ফর্ম খুব শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। ছোট করদাতাদের সুবিধার জন্য সরকার বিশেষ একটি প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাজেটে। এই স্কিমের লক্ষ্য কর পরিশোধ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে , কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-বান্ধব করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য—একই সঙ্গে অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে।
কর অনিয়মের ক্ষেত্রে এবার আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। আয় গোপন বা ভুল তথ্য দিলে জরিমানার (Tax Penalty) হার বাড়িয়ে বকেয়া করের ১০০ শতাংশ করা হচ্ছে। স্থাবর নয় এমন সম্পদের (যেমন আর্থিক সম্পদ) তথ্য গোপন করলে, যেখানে এতদিন জরিমানা ছিল না, এবার থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, মানবসম্পদ পরিষেবা (Manpower services)-কে টিডিএস (Tax Deducted at Source)-এর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কর সংগ্রহ আরও কার্যকর হয়। বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। বিদেশি ট্যুর প্যাকেজের উপর TCS কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। পাশাপাশি, শীঘ্রই সরলীকৃত আয়কর বিধি চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর আওতায় শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত খরচের জন্য টিসিএস (TCS) হার কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাজেট ভাষণে আত্মনির্ভর ভারতে জোর নির্মলার
আয়করের স্তরে কোনও রকম বদল এই বাজেটে ঘোষণা করা হল না। ITR-1 ও ITR-2 ফর্মে রিটার্ন দাখিলকারীরা আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।যেসব ব্যবসা বা ট্রাস্টের অডিট প্রয়োজন নেই, তারা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন। নন-রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম আসছে। প্রবাসী ভারতীয়দের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় টিডিএস (TDS) কাটার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার থেকে টিডিএস কাটার দায়িত্ব থাকবে ভারতে থাকা ক্রেতার উপর, আলাদা করে TAN নম্বর উদ্ধৃত করার আর প্রয়োজন হবে না। বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা ভারতে অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় TDS কাটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট করদাতাদের জন্য ছয় মাসের বিশেষ বিদেশি সম্পদ ঘোষণার স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সীমিত সময়ের মধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদ বা আয় প্রকাশের সুযোগ মিলবে।
কেন্দ্রীয় সরকার আয়কর আইনের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব করল বাজেটে। Books of Accounts পেশ করতে ব্যর্থ হলে সেই অপরাধকে ফৌজদারি অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। অর্থাৎ এ বিষয়ে অপরাধমুক্ত করার প্রস্তাব। একই সঙ্গে আয়কর আইনের অধীনে মামলার কাঠামোকে যুক্তিসংগত ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা কমে এবং করদাতারা স্বস্তি পান। করদাতাদের জন্য আরও বড় স্বস্তি হিসেবে মোট কর দাবির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অ্যাসেসমেন্ট ও পেনাল্টি সংক্রান্ত কার্যক্রমকে একত্রিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে পুরো কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।বাজেট ২০২৬–২৭-এর আয়কর সংক্রান্ত ঘোষণাগুলি একদিকে যেমন ব্যবসা ও করদাতাদের জন্য স্বচ্ছতা ও সহজতা আনতে চায়, তেমনই অন্যদিকে কর ফাঁকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিচ্ছে।







