নয়াদিল্লি: বাজেট মানেই প্রত্যাশা। আর বাজেট ২০২৬ (Budget 2026) ঘিরে সেই প্রত্যাশার পারদ এবার বেশ চড়া। সাধারণত কোনও সরকারের প্রথম বা দ্বিতীয় বাজেটে খুব বেশি জনমোহিনী ঘোষণা থাকে না। এই বাজেটগুলি মূলত সংস্কারমুখী হয়, কারণ ভোটের চাপ তুলনামূলক কম থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের বাজেট সেই ছকে বাঁধা নয়। কারণ এই বাজেটের মাসখানেকের মধ্যেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ঢাকে কাঠি পড়বে। ফলে সংস্কারের পাশাপাশি জনস্বার্থে কিছু বড় ঘোষণা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এই মুহূর্তে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitaraman) সামনে চ্যালেঞ্জের তালিকা দীর্ঘ। একদিকে পরিকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক বৃদ্ধির হার ধরে রাখা—অন্যদিকে রাজকোষের ভারসাম্য বজায় রাখা। এই সমীকরণ মেলানোই এবারের বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরও পড়ুন : উদ্ধার বারামতির অভিশপ্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স! কী রয়েছে তাতে? দেখুন
সরকারি সূত্র ও শিল্পমহলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাজেটে রেল, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, উৎপাদন, অটোমোবাইল, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স, এমএসএমই, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়তে পারে। বিশেষ করে পরিকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধিকে আর্থিক বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক শিল্প সংগঠনের মতে, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন।
মার্কিন শুল্ক চাপ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রপ্তানি খাতকে চাঙ্গা করা অর্থমন্ত্রীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, কৃষি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রগুলিতেও বাড়তি বরাদ্দের দাবি উঠছে। রিয়েল এস্টেট শিল্পের ক্ষেত্রেও কিছু ছাড় বা প্রণোদনার প্রত্যাশা রয়েছে। সুদের হারে বড় বদল হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। একই সঙ্গে ইপিএফও পেনশনারদের একাংশ আশা করছেন, এবার অন্তত পেনশন সংক্রান্ত কোনও বড় ঘোষণা আসতে পারে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরীতে নির্বাচন। ভোটমুখী এই রাজ্যগুলিতে বড় পরিকাঠামো বিনিয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে বাংলা ও কেরলকে কেন্দ্র সরকার ভবিষ্যতের ‘টার্গেট স্টেট’ হিসেবে দেখছে বলেই জল্পনা। তবে সব কিছুর মধ্যেই বড় প্রশ্ন, রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে এই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবেন নির্মলা সীতারামন? বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতিতে সেই উত্তর মিলবে বাজেট পেশের দিনই।







