কাঁকসা: সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বেলডাঙায় (Beldanga) মহিলা সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন বিজেপি (BJP) নেত্রী তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। শনিবার দুপুরে কাঁকসার (Kanksa) বাঁশকোপার একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই ঘটনাকে “সভ্য সমাজের লজ্জা” বলে আখ্যা দেন।
লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, সাংবাদিক সোমা মাইতি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হাতে চরমভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যেভাবে ওই সাংবাদিককে চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয়েছে, তা এক কথায় অশালীন ও বর্বরতা। “আর একটু হলেই তাঁকে মেরেই ফেলা হত,” বলেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, ঘটনার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সাহায্য চাওয়া হলেও পুলিশ কোনও রকম সহযোগিতা করেনি, এমনকি ঘটনাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়নি।
আরও পড়ুন: নাম না করে হুমায়ূনকে ‘গদ্দার’ বলে দিলেন অভিষেক
লকেটের দাবি, সাংবাদিক সোমা মাইতিকে টোটো করে বেরিয়ে আসতে হলেও টোটোচালককেও হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, শনিবারও আরও দুই সাংবাদিক কৌশিক ঘোষ ও পলাশ মণ্ডল এবং চিত্র সাংবাদিক কেষ্ট দত্ত আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। একের পর এক সাংবাদিক নিগৃহীত হলেও শাসকদলের তরফে কোনও প্রতিবাদ শোনা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করে লকেট বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে তাঁদের দূর থেকে ছবি তুলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেই বেলডাঙায় এই অশান্তি ছড়ানো হয়েছে, যার জেরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
লকেট চট্টোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছে বলেই পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি। আন্দোলনকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা থাকলেও পুলিশকে লাঠি হাতে নামতে ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছে—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।”







