কলকাতা: লিওনেল মেসির (Lionel Messi) কলকাতা (Kolkata) সফর স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলার ছাপ রেখেছে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuvabharti Stadium) সৃষ্টি হওয়া অশান্তির ছবি ও বিবরণ গার্ডিয়ান এবং বিবিসির মতো প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায়, বিশ্ব দরবারে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারের। তৃণমূলকে বাঁচাতে মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।” তাঁর দাবি, শতদ্রুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে একাধিক ফাঁকফোকর রয়েছে। শুধু শতদ্রু নন, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর গ্রেফতারিও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত তদন্ত কমিটিকেও মানেন না বলে জানান শুভেন্দু।
আরও পড়ুন: যুবভারতীকাণ্ডে ধৃত শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দিল আদালত
শুভেন্দুর অভিযোগ, ভোটের কয়েক মাস আগে ফুটবল আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। “কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। একজন আন্তর্জাতিক তারকাকে রাজ্যের সম্পত্তি ভেবে ‘খেলা হবে’ করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু উল্টো খেলা হয়ে গিয়েছে,” কটাক্ষ করেন তিনি।
এদিন যুবভারতীর অব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, আয়োজকদের টিম, নিরাপত্তা ও পিআর ব্যবস্থার ব্যর্থতায় গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা মেসিকে সরাসরি দেখতে পাননি। সেই হতাশা থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার দুপুর ২টায় এসপ্ল্যানেডে বিজেপি যুব মোর্চার বিক্ষোভ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার যুবভারতীতে হাজার হাজার সমর্থক হাজির হলেও, অধিকাংশ দর্শকই গ্যালারিতে বসে জায়ান্ট স্ক্রিনে মেসিকে দেখতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ। সেই হতাশা থেকেই স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে এখনও উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
দেখুন আরও খবর:







