পূর্ব মেদিনীপুর: জমি-বিরোধের জেরে এক অসহায় কৃষক পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে সামাজিক বয়কট (Social Bar) করার অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলার এগরা ১ নম্বর (Egra-1 Block) ব্লকের বর্তনা গ্রামে। অভিযোগ, গ্রামের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দেবাশীষ মাইতির নির্দেশেই এই বয়কট চলছে। যার ফলে ওই পরিবার এখন চরম দুর্দশার দিন কাটাচ্ছে। এমনকি চাষের জমিতে জল পাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তনা গ্রামের বাসিন্দা ছবিরাণী মাইতির প্রতিবন্ধী বোন মৃত্যুর আগে পাঁচ ডেসিমিল জমি তাঁকে দিয়ে যান। কিন্তু সেই জমির উপর নজর পড়ে গ্রামেরই তৃণমূল নেতা দেবাশীষ মাইতির। তিনি ও তাঁর অনুগামীরা ছবিরাণী মাইতির উপর চাপ সৃষ্টি করেন জমির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ছবিরাণী এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। গ্রামের বাসিন্দাদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যেন কেউ এই পরিবারের সাথে মেলামেশা না করে।
আরও পড়ুন: মৈপীঠে বাঘে-মানুষে লড়াই! দিনের আলোতেই ঘটল ভয়ঙ্কর ঘটনা
এই সামাজিক বয়কটের ফলে পরিবারটির জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কারণ গ্রামের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেমন তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনই কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বললে তাকেও বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়। সবথেকে ভয়াবহ বিষয়, তাঁদের চাষের জমিতে জল দেওয়া অবধি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অসহায় ছবিরাণী মাইতি প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি বারবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, মহকুমা শাসক ও জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু তাতেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে একবার ব্লক প্রশাসন ও থানার উদ্যোগে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বয়কট তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এমতাবস্থায় ছবিরাণী মাইতি বলেন, “আমরা যদি চাষের জমিতে জল না পাই, তাহলে বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নেবো।”
একটি স্বাধীন দেশে, যেখানে আইন ও সংবিধান নাগরিকদের সমানাধিকার দেয়, সেখানে একটি পরিবারকে এভাবে সামাজিকভাবে বয়কট করে নিঃশেষ করে দেওয়ার ঘটনা সত্যিই মধ্যযুগীয় বর্বরতার নজির। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়, নাকি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
দেখুন আরও খবর: